আয়ারল্যান্ডের বদলে ইসরায়েলে ঘুরল কেভিন বেকনের পোশাকের পার্সেল, সাহায্য চাইলেন অভিনেতা
হলিউড অভিনেতা কেভিন বেকন প্রকাশ্যে সাহায্য চেয়েছেন—তাঁর পোশাকভর্তি একটি পার্সেল বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ালেও গন্তব্যে পৌঁছায়নি। ৬৮ বছর বয়সী অভিনেতা অনুসারীদের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁর হারানো পোশাকগুলো আসলে কোথায় লুকিয়ে আছে।
বেকন বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে কাজ করছেন। তিনি বলেন, হালকা ব্যাগে ভ্রমণের জন্য তিনি কিছু পুরোনো পোশাক আয়ারল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, তিনি খুব বেশি পোশাক কেনেন না; এই পোশাকগুলো সম্ভবত নব্বইয়ের দশক থেকে তাঁর কাছে আছে।
পোশাক পাঠাতে তিনি একটি শিপিং সেবা ব্যবহার করেন। মজা করে তিনি বলেন, সেই প্রতিষ্ঠানের নাম তিনি বলতে চান না, তবে নামটি ‘ব্রেডএক্স’-এর সঙ্গে মেলে—ইঙ্গিতটা ফেডএক্সের দিকেই। গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের আপস্টেট থেকে তাঁর শুটিংয়ের ঠিকানায় পোশাকের বাক্সটি পাঠানো হয়।
এরপরই শুরু হয় পার্সেলটির অদ্ভুত ভ্রমণ। বাক্সটি সরাসরি মেমফিসে যায়, মেমফিস থেকে ফ্রান্সে, ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জার্মানিতে পৌঁছায়। আর ২৯ সেপ্টেম্বর সেটি পাঠিয়ে দেওয়া হয় সোজা ইসরায়েলে—আয়ারল্যান্ডে নয়, ইসরায়েলে।
সেখানেই শেষ নয়। ৩ অক্টোবর পার্সেলটি ইসরায়েল থেকে ফ্রান্সে ফিরে আসে, পরদিন আবার পাঠানো হয় ইসরায়েলে। ৫ অক্টোবর সেটি জার্মানিতে যায়, ৬ অক্টোবর আবার ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো হয়।
১০ অক্টোবর বাক্সটি পৌঁছায় ফ্রান্সে, আর ১১ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে। সেদিনই সেটি যুক্তরাজ্য ছেড়ে সোজা আয়ারল্যান্ডে চলে আসে—গন্তব্যের দেশে পৌঁছালেও বিপত্তি কাটেনি। অভিনেতার ভাষায়, পার্সেলটি সেখানে পাঁচ দিন ধরে পড়ে আছে, আর বলা হচ্ছে সেটি ডেলিভারি করা যাচ্ছে না।
বেকন বলেন, কেন ডেলিভারি হচ্ছে না, তিনি বুঝতে পারছেন না। ‘এটা শুধু ওখানে পড়ে আছে,’ বলেন তিনি। ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতেও তিনি পারেননি।
অনেকেই হয়তো ভাববেন, নতুন পোশাক কিনে নিলেই হয়—বেকন নিজেও সেই প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁর জবাব, তিনি নতুন পোশাক কিনতেই পারেন, কিন্তু এই পোশাকগুলোই তিনি চান, কারণ নব্বইয়ের দশক থেকে থাকা এসব পোশাকের আলাদা আবেগময় মূল্য আছে তাঁর কাছে।
‘ট্রেমরস’ ছবির এই তারকার ভাষায়, পার্সেলটিতে আছে পুরোনো বুট, পুরোনো জিনস আর পুরোনো টুপি। তিনি ভাবছেন, এই জিনিসগুলো তিনি আর কখনো দেখতে পাবেন কি না।
এ বিষয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটালের মন্তব্যের অনুরোধে ফেডএক্সের প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি। তবে প্রতিষ্ঠানটি আলাদাভাবে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে, বেকনের টিমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে পার্সেলটি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছে এবং কোথায় ভুল হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।
প্রায় ৪০ বছর ধরে কাইরা সেডউইকের সঙ্গে বিবাহিত বেকনের দুই সন্তান ট্র্যাভিস ও সোসি। আয়ারল্যান্ডে কাজের মধ্যে আটকে থাকা এই পার্সেল নিয়ে তাঁর আবেদন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয়—শেষ পর্যন্ত নব্বইয়ের দশকের পোশাকগুলো তাঁর হাতে পৌঁছায় কি না, সেটাই দেখার।






