নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার: মেঘনায় ২২ জেলের কারাদণ্ড, জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ২২ জেলেকে ১২ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে ২৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, ছয়টি মাছ ধরার নৌকা ও পাঁচ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। আটকদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কারাদণ্ড পাওয়া জেলেরা হলেন রিফাত (২৫), রাসেল খান (২৬), দেলোয়ার হোসেন (৬০), সুজন গাজী (৩০), ইদ্রিস আলী (৩৫), নজরুল বেপারী (২৮), মনির মিজি (২৮), শহীদ গাজী (২৯), দেলোয়ার হোসেন মোল্লা (৬০), জাহাঙ্গীর বেপারী (৩৫), সেলিম ফকির (৩০), মো. নজরুল (৩০), কামাল বেপারী (৩৪), লিটন বেগ (৪৫), মাইনুদ্দিন (৪৭), নয়ন শরীফ (১৮), নিজাম প্রধানিয়া (৩৬), মো. রাসেল (৩০), মনির বেপারী (২৮), মোহাম্মদ হোসেন (১৯), রাসেল গাজী (২৫) ও মো. ইকবাল (২২)। তাঁদের বাড়ি চাঁদপুর ও পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলায়।
অভিযানে অংশ নেওয়া সদর উপজেলার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় রবিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযান চালানো হয় সদর উপজেলার আনন্দবাজার, লালপুর, কাচিকাটা, চিরাচর, হরিসভা, রনাগোয়াল, দোকানঘর ও বহরিয়া এলাকায়। এর মধ্যে চিরাচর এলাকা থেকে ১৮ জন এবং দোকানঘর এলাকা থেকে ছয়জন জেলেকে আটক করা হয়।
পরে রাত ১২টায় কোস্টগার্ডের চাঁদপুর স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসে। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ইকবাল, মো. রহমত উল্লাহ ও তানভীর রাব্বী আদালত পরিচালনা করেন।
আদালত আটক ২২ জেলেকে ১২ দিন করে কারাদণ্ড দেন এবং প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে জরিমানা করেন। বাকি দুজন জেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আরও জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জব্দ করা কারেন্টজাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। জব্দ করা ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
জব্দ করা ছয়টি মাছ ধরার নৌকা কোস্টগার্ডের হেফাজতে রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার এই অভিযান নিষেধাজ্ঞার সময়জুড়ে চলমান থাকার কথা।
মা ইলিশ শিকার বন্ধে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই এই জেলেরা নদীতে নেমেছিলেন বলে অভিযানে উঠে এসেছে, আর তারই পরিণতিতে তাঁদের কারাদণ্ড ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হলো।




