টম ক্রুজের ছবির ব্যর্থতা নিয়ে উল্লাসে আপত্তি বেন অ্যাফ্লেকের, সতর্ক করলেন সৃজনশীল ঝুঁকি নিয়ে
বড় বাজেটের কোনো সিনেমা বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলে আলোচনা-সমালোচনা হবেই। কিন্তু সেই ব্যর্থতা নিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠা কতটা যুক্তিসংগত — টম ক্রুজ অভিনীত ‘ডিগার’ প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার পর সেই প্রশ্নই তুলেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা বেন অ্যাফ্লেক।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে ‘ডিগার’ নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানান অ্যাফ্লেক। তাঁর মতে, কোনো সিনেমার আর্থিক সাফল্য-ব্যর্থতাকেই বিচারের প্রধান মাপকাঠি করে তুললে নির্মাতারা নতুন ধরনের গল্প বলার ঝুঁকি নিতে নিরুৎসাহিত হবেন, আর তার ক্ষতি হবে চলচ্চিত্রের সৃজনশীলতার।
‘ডিগার’ টম ক্রুজের গত প্রায় দুই দশকের সিনেমাগুলোর মধ্যে উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে কম উদ্বোধনী আয় করা ছবিগুলোর একটি। গত ২ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায় সিনেমাটি। মুক্তির পর প্রত্যাশা অনুযায়ী আয় করতে না পারায় বড় বাজেটের এই ছবি নিয়ে শুরু হয় নানা সমালোচনা ও বিদ্রূপ।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম দুই সপ্তাহে উত্তর আমেরিকায় ছবিটির আয় প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, আর বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে।
বিপরীতে ‘ভ্যারাইটি’র হিসাব অনুযায়ী ছবিটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ১৬ থেকে ১৮ কোটি ডলার। এর সঙ্গে প্রচারের জন্য খরচ হয়েছে আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আলেহান্দ্রো গনসালেস ইনারিতু পরিচালিত ‘ডিগার’-এ ডিগার রকওয়েল নামের এক খ্যাপাটে তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম ক্রুজ। সিনেমাটিতে তাঁকে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী চেহারায়, একজন বুড়ো মানুষের অবতারে।
গল্পে সেই তেল ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডের জেরে বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়। করপোরেট লোভ ও গল্প বলার নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় উঠে এসেছে সিনেমাটিতে।
এতে আরও অভিনয় করেছেন রিজ আহমেদ, জন গুডম্যান, সান্দ্রা হুলার, মাইকেল স্টালবার্গ ও জেসি প্লেমন্সের মতো অভিনয়শিল্পীরা। তারকাবহুল এই দল নিয়েও বক্স অফিসে ছবিটি প্রত্যাশার ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেনি।
অ্যাফ্লেকের মতে, দর্শক ও সমালোচকেরা যখন কোনো সিনেমাকে মূলত তার আয়ের হিসাব দিয়ে বিচার করেন, তখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন ধরনের গল্প বলার বদলে পরিচিত ছকে তৈরি সিনেমার দিকে ঝুঁকতে পারে।
অথচ ব্যতিক্রমী ও মানসম্পন্ন সিনেমা নির্মাণের জন্য ঝুঁকি নেওয়া জরুরি। সব বড় প্রকল্পই প্রত্যাশিত আর্থিক সাফল্য পাবে না — এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যর্থতার ভয়ে নির্মাতারা ঝুঁকি নেওয়া বন্ধ করে দিলে শেষ পর্যন্ত হলিউডে একঘেয়ে, নিরাপদ ও অনুমানযোগ্য সিনেমাই প্রাধান্য পাবে বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, এমন আর্থিক ফলের কারণে কোনো সৃজনশীল প্রচেষ্টাকে নিরুৎসাহিত করা হলে ক্ষতি শুধু সংশ্লিষ্ট নির্মাতার নয়, পুরো সিনেমাশিল্পেরই। ‘ডিগার’-এর ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তাই এখন শুধু একটি ছবির আয়-ব্যয়ের হিসাব ছাড়িয়ে হলিউডের ভবিষ্যৎ গল্প বলার ধরন নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।





