স্বাধীনতার পথে ভোট আলবার্টায়, কানাডাকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে লড়ছেন কার্নি
কানাডার প্রদেশ আলবার্টা সোমবার সিদ্ধান্ত নেবে, তারা বিচ্ছিন্নতার ওপর বাধ্যতামূলক গণভোটের পথে এগোবে কি না। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সতর্ক করেছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের সময়ে বিপজ্জনক অনিশ্চয়তা ডেকে আনবে।
জনমত জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে, পশ্চিম কানাডার এই প্রদেশের এক-চতুর্থাংশেরও কম মানুষ স্বাধীনতাকে সমর্থন করেন। তবু ভোটের আগের দিনগুলোতে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়েছে ভোটার উপস্থিতির ওপর।
শঙ্কা হলো, উদাসীন যুক্তরাষ্ট্রপন্থী বা কেন্দ্রীয়পন্থী ভোটারদের সুযোগে একটি উদ্দীপ্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী শিবির জরিপকে উল্টে দিতে পারে কি না। বৃহস্পতিবার এক সমাবেশে কার্নি বলেছেন, কেউ যেন না বলে যে এটি এরই মধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে; উপস্থিতিই ফল নির্ধারণ করবে।
আলবার্টায় বেড়ে ওঠা কার্নি এই গণভোটকে একটি ‘বিপজ্জনক ধোঁকা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করছেন এবং কানাডার মনোবল ভাঙতে সংযুক্তির হুমকি দিচ্ছেন।
কার্নি বলেছেন, এমনভাবে ভোট দিন যেন কানাডা তার ওপর নির্ভর করে, কারণ সত্যিই তা নির্ভর করে। তার এই আহ্বান ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার ওপরই জোর দিয়েছে।
আলবার্টায় রয়েছে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুত। ওটাওয়ার এই খাত পরিচালনা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদী গতি পেয়েছে। অনেক আলবার্টাবাসী কার্নির পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোকে অপছন্দ করতেন; তাদের অভিযোগ, জলবায়ুপন্থী এজেন্ডা এগিয়ে নিতে তিনি তেল উৎপাদন দমনের চেষ্টা করেছিলেন।
আলবার্টার প্রধানমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ এই মাসে কানাডাল্যান্ড পডকাস্টকে বলেছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবের জন্য দায়ী কে তা নির্দিষ্ট করে বলতে হলে তিনি ট্রুডোর নামই বলবেন।
শনিবার এডমন্টনে এক বিচ্ছিন্নতাবাদী সমাবেশে ৬১ বছর বয়সী স্যান্ডি মার্টেল বলেছেন, তেলশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষ নিজেদের লুণ্ঠিত, প্রতারিত ও নির্যাতিত মনে করেন। সংবাদ সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেছেন, এখন দাঁড়িয়ে ‘থামুন’ বলার সময় এসেছে।
ভোটটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যার কয়েক দিন আগে প্রদেশটিতে একটি সামরিক ঘাঁটিতে আগুনে অন্তত চার সৈন্য নিহত ও কয়েক ডজন আহত হন, যা জাতীয় শোকের আবহ তৈরি করেছে।
রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী স্মিথ বলেছেন, তিনি চান আলবার্টা কানাডাতেই থাকুক, কিন্তু বিভাজনমূলক প্রশ্নটির মীমাংসা করতেই তিনি গণভোট ডেকেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট বিচ্ছিন্নতার পক্ষে গেলে তিনি বাধ্যতামূলক গণভোটের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রপন্থীরা জিতলে স্মিথের ভাষায় বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নটি বন্ধ বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। বিশ্লেষকেরা স্মিথের কৌশলকে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যিনি ভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেনের সদস্যপদ বিতর্কের মীমাংসা করতে চেয়েছিলেন।
ব্রেক্সিট ঘিরে অস্থিরতার সময়ে কার্নি ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ক্যালগারির এক টেলিভিশন স্টেশনকে তিনি সেই অভিজ্ঞতার সতর্কবার্তা দিয়েছেন— তখন ‘ব্রেক্সিট’ মানে কী তা স্পষ্ট ছিল না, পরের কয়েক বছর তা নির্ধারণের সময়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ছিল, বিনিয়োগ থেমে গিয়েছিল এবং অর্থনীতি পিছিয়ে পড়তে শুরু করেছিল।
সোমবারের গণভোটে রয়েছে ১০টি প্রশ্ন, যার কয়েকটি অভিবাসনসংক্রান্ত। তবে মনোযোগ ১০ নম্বর প্রশ্নে, যেখানে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে আলবার্টা কানাডার প্রদেশ হিসেবেই থাকবে, নাকি প্রদেশটি চূড়ান্ত স্বাধীনতা ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে।
আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ বলেছে, ১০ নম্বর প্রশ্নের ব্যালটই প্রথমে গণনা করা হবে, ফল আশা করা হচ্ছে মঙ্গলবার ভোরের দিকে। গণভোটের আগের সময়টি ম্যানিপুলেট করা এআই কনটেন্টের বন্যায় মেঘাচ্ছন্ন ছিল।
ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া ইকোসিস্টেম অবজারভেটরির পরিচালক অ্যাঙ্গাস ব্রিজম্যানের শঙ্কা, সংখ্যা যাই হোক, একটি খুব সম্ভাব্য ফল হলো একটি সম্প্রদায় এই নির্বাচনকে চুরি যাওয়া বা অন্তত অন্যায্য বলে দেখবে। কার্নি ‘নির্ণায়ক ফল’-এর আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও আলোচনায় ঢুকেছেন। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানুয়ারিতে আলবার্টাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। ৫ অক্টোবর কুইবেকের প্রাদেশিক নির্বাচনে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী দল জেতার পর প্রযুক্তি ধনকুবের ইলন মাস্ক এক্সে লিখেছিলেন, বিচ্ছিন্ন হলেই তারা ভালো থাকবে, আলবার্টা ও সাসকাচেওয়ানেরও বিচ্ছিন্ন হওয়া উচিত। বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নে কার্নি বৃহস্পতিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি সরকারগুলোর তাদের নির্বাচনে নিজেদের জড়ানো উচিত নয়।






