বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেলের চক্ষু ওটিতে আগুন, পুড়ল অপারেশনের সরঞ্জাম
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বহির্বিভাগের পাশে থাকা ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়লে অপারেশনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে। হাসপাতালের দৈনন্দিন কার্যক্রমের বাইরে রাতের ওই সময়ে হঠাৎ কক্ষটিতে আগুন দেখা দিলে আশপাশে থাকা কর্মীদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। আগুনের বিস্তার রোধ করা না গেলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হঠাৎ কক্ষটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং চক্ষু অপারেশনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। ঠিক কোন সরঞ্জাম কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ছাড়া ওই ওটি আবার কবে ব্যবহার করা যাবে, তা নিশ্চিত করা কঠিন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজটি করেন হাসপাতালের কর্মীরাই। তারা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বাইরে থেকে বড় আকারে দমকল তৎপরতার আগেই আগুন নেভানো সম্ভব হওয়ায় হাসপাতালের অন্য অংশে আগুন ছড়ায়নি।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের জরুরি সেবা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাসপাতালে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়েই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের এই বক্তব্য কর্মীদের তৎপরতায় আগুন নেভার তথ্যকেই নিশ্চিত করে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহীম আলী বলেন, চক্ষু বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে আগুন লেগে কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের ভাষ্যেও হতাহত না হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে জানা গেছে। ফলে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো সামনে আসেনি।
আগুন লাগার কারণ সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা তদন্ত বা পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়। চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা একটি কক্ষে আগুন লাগার ঘটনায় কারণ খুঁজে বের করা জরুরি, যাতে একই ঝুঁকি আবার তৈরি না হয়।
চক্ষু বিভাগের অপারেশন থিয়েটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চোখের নির্ধারিত অপারেশনের সূচিতে প্রভাব পড়বে কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। ওটি ব্যবহারের অনুপযোগী থাকলে রোগীদের অপারেশনের তারিখ পেছাতে হতে পারে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না পাওয়ায় এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র প্রস্তুত থাকা এবং কর্মীদের তা ব্যবহারে সক্ষম হওয়া যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনা তা আবার দেখিয়ে দিল। কর্মীরা দ্রুত যন্ত্র ব্যবহার করতে পেরেছিলেন বলেই আগুন বড় আকার নেওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসে।
আপাতত সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, রাতের এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো রোগী, চিকিৎসক, নার্স বা কর্মী আহত হননি। পুড়ে যাওয়া সরঞ্জামের ক্ষতি পূরণ ও ওটি সচল করা এখন হাসপাতাল প্রশাসনের সামনে প্রধান কাজ।
এখন অপেক্ষা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এবং আগুনের কারণ অনুসন্ধানের ফলাফলের। সেসব তথ্য পাওয়া গেলেই বোঝা যাবে, এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা ছিল নাকি এর পেছনে প্রতিরোধযোগ্য কোনো গাফিলতি ছিল।


