…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আন্তর্জাতিক › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আন্তর্জাতিক

গাজায় পাঁচ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা বন্ধ করছে জাতিসংঘের সংস্থা, তহবিল সংকটে কমছে রেশনও

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, তহবিলের ঘাটতির কারণে গাজায় প্রতি মাসে পাঁচ লাখ মানুষের সহায়তা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। সোমবার সংস্থাটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

এই কাটছাঁটের পরও গাজায় প্রায় ১১ লাখ ফিলিস্তিনি প্রতি মাসে খাদ্য বা নগদ সহায়তা পেতে থাকবেন, যা উপত্যকাটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সংস্থাটি প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৮ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিয়ে আসছিল। এখন সেই সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

সংস্থাটির ফিলিস্তিন অঞ্চলের পরিচালক শন হিউজ পূর্ব জেরুজালেমে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এই সহায়তা মানুষের জন্য জীবনরেখা ছিল। কিন্তু এখন তা ধরে রাখা বা বাড়ানোর বদলে কমাতে হচ্ছে।

হিউজ বলেন, সমস্যাটি ত্রাণ পৌঁছানোর সুযোগের নয়; সমস্যাটি হলো অর্থের। মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তহবিল না থাকায় সহায়তা কমাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

যেসব পরিবার সহায়তা পেতে থাকবে, তারাও আগের চেয়ে কম পাবেন। আগে যেখানে দুটি করে খাদ্যের প্যাকেট দেওয়া হতো, এখন দেওয়া হবে একটি করে, আর গমের আটার বস্তাও হবে আগের চেয়ে ছোট।

নগদ সহায়তা পাওয়া ৭৫ হাজার পরিবারের মাসিক অর্থও কমে যাচ্ছে। আগে তারা পেতেন ১ হাজার ২৫০ শেকেল, এখন পাবেন ৭৫০ শেকেল। ডলারের হিসাবে তা প্রায় ৪০০ ডলার থেকে নেমে আসছে ২৪০ ডলারে।

হিউজের ভাষ্য, পরিস্থিতি এতটা ভালো হয়নি যে সহায়তা কমানো চলে। মানুষ এখনো নিরাপদ নয়, প্রতিদিন বিমান হামলা চলছে, মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং প্রায় কারোরই থাকার মতো স্থায়ী ঘর নেই। মানবিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ, অর্থাৎ জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ, এখনো তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় ভুগছেন এবং বেঁচে থাকার জন্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। শীতের মৌসুম ঘনিয়ে এলে এই চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

২০২৫ সালের আগস্টে জাতিসংঘ-সমর্থিত খাদ্য নিরাপত্তা মূল্যায়ন সংস্থা আইপিসি গাজায় দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিল। ইসরায়েল সেই সিদ্ধান্তকে মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির দুই মাস পর ডিসেম্বরে সেই দুর্ভিক্ষ ঘোষণা তুলে নেওয়া হয়, যদিও এর পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

তহবিল সংকটের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘের সংস্থাগুলোতে অনুদান ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। আগামী ছয় মাসে গাজা ও পশ্চিম তীরের জন্য সংস্থাটির দরকার প্রায় ৪৫ কোটি ডলার, অথচ এ বছর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জন্য তারা স্বাভাবিক তহবিলের প্রায় অর্ধেকই পেয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরেও পশ্চিম তীরে সহায়তাপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে দুই লাখে আনা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল গাজায় আগের চেয়ে বেশি পণ্য ঢুকতে দিলেও যেসব জিনিস সামরিক কাজে লাগতে পারে বলে তারা মনে করে, সেগুলো এখনো আটকে রেখেছে। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে কৃত্রিম অঙ্গের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসও রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল জাতিসংঘের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে আসছে।

হিউজ সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিন ও গাজার মানুষের এই পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এখন নয়। তহবিল দ্রুত না বাড়লে সামনে আরও মানুষের সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

সুদানে বাজারের কাছে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলের পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যে একটি বাজারের কাছে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার একজন চিকিৎসা সূত্র ও একজন প্রত্যক্ষদর্শী…