নয় মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে ১৮৭ জন নিহত, জানাল এইচআরএসএস
দেশে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় নয় মাসে ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এই তথ্য জানিয়েছে।
সংগঠনটির দেওয়া এই হিসাব দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গণপিটুনির মতো ঘটনায় নিরপরাধ মানুষেরও প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে বলে মানবাধিকার কর্মীরা বরাবরই সতর্ক করে আসছেন।
মব সহিংসতা বলতে বোঝায়, কোনো অভিযোগ বা গুজবের ভিত্তিতে উত্তেজিত জনতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বিচারিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষা না করে নিজেরাই অভিযুক্তকে মারধর বা শাস্তি দিতে এগিয়ে আসে। অনেক ক্ষেত্রে এই সহিংসতা মৃত্যু পর্যন্ত গড়ায়।
নয় মাসে ১৮৭ জনের মৃত্যুর সংখ্যাটি সেই বাস্তবতারই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে বহু মানুষ এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলে থাকে, গুজব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য এবং তাৎক্ষণিক উত্তেজনা—এসবই মব সহিংসতার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। যাচাই না করে গুজবে কান দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয় বারবার।
এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ যেমন জরুরি, তেমনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে এই প্রবণতা কমানো কঠিন।
একই সঙ্গে সচেতনতাও বড় অস্ত্র। অভিযোগ থাকলে অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথা বলা হয়।
এইচআরএসএসের এই প্রতিবেদন এমন সময়ে এল, যখন দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। দুর্গাপূজার এই মৌসুমে প্রশাসন যেখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ওপর জোর দিচ্ছে, সেখানে মব সহিংসতার এই পরিসংখ্যান নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরেকটি দিক সামনে আনল।
নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য এই ঘটনাগুলো অপূরণীয় ক্ষতি। অনেক ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পরে প্রমাণিতও হয় না—ফলে গণপিটুনিতে হারানো প্রাণের কোনো সান্ত্বনা থাকে না।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের প্রত্যাশা, এই পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় করবে—গুজব প্রতিরোধ, দ্রুত পুলিশি সাড়া এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে মব সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।
এখন দেখার বিষয়, এইচআরএসএসের এই তথ্য প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং আসছে মাসগুলোতে এই ধরনের প্রাণহানির ঘটনা কমে আসে কি না।





