ওপেনএআইয়ের বৈঠককক্ষে গোপন রেকর্ডার বসানোর অভিযোগ, সৌদি সমর্থনের দাবি আদালতের নথিতে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের একটি বৈঠককক্ষে গোপনে রেকর্ডিং যন্ত্র বসানোর অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক কর্মীর পেছনে সৌদি সরকারের ‘যথেষ্ট সমর্থন’ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি সৌদি নাগরিক আবদুলরহমান আলফোজান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের দাবি, ওপেনএআইয়ে কর্মরত এই প্রকৌশলী সৌদি রাজপরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে ‘ঘনঘন যোগাযোগ’ রাখতেন। তাদের আরও দাবি, গ্রেপ্তারের পর তার স্ত্রী ও ছেলের জন্য সৌদি আরবগামী একমুখী ফ্লাইটের খরচ দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর এক সদস্য।
৩৫ বছর বয়সী এই প্রকৌশলীকে সোমবার পলায়নের ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বিচার পর্যন্ত জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। সৌদি সরকার এ বিষয়ে বিবিসির মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।
আলফোজান প্রায় এক বছর ধরে ওপেনএআইয়ে কাজ করছিলেন, তারপরই তিনি অডিও রেকর্ডার বসানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটি ৩০ সেপ্টেম্বর যন্ত্রটি আবিষ্কার করে—একটি সম্মেলনকক্ষের টেলিভিশনের পেছনে তা লাগানো ছিল, ওপরে ঢাকা ছিল টয়লেট পেপার দিয়ে।
এরপর ওই কক্ষে ক্যামেরা বসানো হয়। ৫ অক্টোবর আলফোজানকে কক্ষে ঢুকে টেলিভিশনের পেছনে—যেখানে অডিও রেকর্ডারটি বসানো হয়েছিল—তাকিয়ে দেখতে দেখা যায় বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৯ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করে এফবিআই, আর ওপেনএআইয়ের সঙ্গে তার চুক্তিও বাতিল করা হয়।
আদালতের নথিতে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তের কথিত এই আচরণ ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ তৈরি করতে পারে। কারণ, যে কক্ষে যন্ত্রটি বসানো ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ওই দিনগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহীরা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, আলফোজানের গ্রেপ্তার ঘটে তার নির্ধারিত ভ্রমণের মাত্র তিন দিন আগে—তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে সান ফ্রান্সিসকো থেকে রিয়াদের উদ্দেশে একমুখী যাত্রায় রওনা হওয়ার কথা ছিল।
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের স্ত্রী এফবিআই এজেন্টদের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, তার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছিল, তাই তিনি ও তার ছেলে ‘স্থায়ীভাবে সৌদি আরবে ফিরে যাচ্ছিলেন’ এবং তার স্বামীও একই পরিকল্পনা করেছিলেন বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে।
আলফোজান গ্রেপ্তারের পরদিন, ১০ অক্টোবর, তার স্ত্রী ও ছেলে সান ফ্রান্সিসকো থেকে কাতারের দোহার উদ্দেশে রওনা হন। তারা ভ্রমণ করেন একমুখী বিজনেস ক্লাস টিকিটে, যা একজন সৌদি সামরিক কর্মকর্তা কিনে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
প্রসিকিউটরদের যুক্তি, ‘শেষ পর্যন্ত, এই মামলাটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার তেমন কোনো তাগিদ অভিযুক্তের নেই।’ যুক্তরাষ্ট্রের জেলা জজ অ্যালেক্স সে সোমবার জামিনে মুক্তির আবেদন নাকচ করে বলেন, ‘হাজির না হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য।’
আলফোজানের সোমবারই পরে সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার পাউন্ড) জরিমানা হতে পারে।





