‘দলের ভেতরে মুনাফেকি বরদাশত করবেন না প্রধানমন্ত্রী’: শৈলকুপায় বিএনপি নেতাকর্মীদের আইনমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে — এই পথে কেউ অন্তরায় হয়ে থাকলে তিনি দল থেকে ছিটকে পড়বেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। দলের ভেতরে থেকে যারা মুনাফেকি করবেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের ক্ষমা করবেন না বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি ফর্মুলা দেবেন — কীভাবে কাজ করতে হবে। সেই ফর্মুলা অনুযায়ী মনোনয়ন ও প্রচারের কাজ চলবে, নিজের পছন্দের প্রার্থীর জন্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি ইউনিয়নের একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কম্পিউটার সিস্টেমে থাকবে। ফলে দল চাইছে ‘উইনিং ক্যান্ডিডেট’ — অর্থাৎ বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান টেনে তিনি বলেন, ‘আমার দল যদি না জেতে, তাহলে আমার মতো বড় নেতা দিয়ে কী হবে, বলেন? আজকে বিএনপি যদি ক্ষমতায় না আসত, তাহলে আমি যত বড় নেতাই হই না কেন, যত ভালো মানুষই হই না কেন, তাতে কিছুই যেত-আসত না।’
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এমন প্রার্থী দিতে হবে, যারা বিজয়ী হয়ে আসবেন। ‘আপনার পছন্দের প্রার্থী দিলেন, কিন্তু তিনি যদি না জেতেন, তাহলে হবে না’ — নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সরাসরি এই বার্তাই দেন তিনি।
দলকে নিজের কাছে সবচেয়ে বড় আমানত বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘দল আমার কাছে সবচেয়ে বড় আমানত। কিন্তু আমি যদি দেখি, আপনি দলের সঙ্গে বেইমানি করছেন, দলের ঊর্ধ্বে উঠে বিকল্প কিছু করছেন, তাহলে আপনাকে ধরার অধিকার আমারও আছে।’
মতবিনিময়ে স্থানীয় পর্যায়ের অনিয়মের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে হবে। শৈলকুপায় এগুলো নেই।’ তাঁর দাবি, শৈলকুপা থেকে শুরু হওয়া এই পথ এখন সারা বাংলাদেশে অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এখন সারা বাংলাদেশে আমাদের সেই পথ অনুসরণ করা হচ্ছে। একটু চিন্তা করে দেখবেন, আপনারা যেটা শুরু করেছিলেন, সারা বাংলাদেশ এখন সেটাই অনুসরণ করছে।’ স্থানীয় নেতাকর্মীদের অবদানকে এভাবেই স্বীকৃতি দেন মন্ত্রী।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলে দলীয় শৃঙ্খলা ধরে রাখাই এই বক্তব্যের মূল সুর বলে মনে করছেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন নিয়ে ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ থাকলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলার চাপই সভা থেকে স্পষ্ট হয়েছে।
আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ফর্মুলা ও ইউনিয়নভিত্তিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত হলে তৃণমূলের চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। আপাতত শৈলকুপার সভা থেকে বার্তা একটাই — দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।




