ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন জারি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেওয়ার পর শুরু হওয়া ঘটনাপ্রবাহের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটল।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের সরে দাঁড়ানো এখন সরকারি নথিতে চূড়ান্ত রূপ পেল।
এর আগে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। সেই ঘোষণার পর তাঁর পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছায় এবং প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা চলছিল; মঙ্গলবার সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী এক অভিযানে উপস্থিত হয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেন তিনি। একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে নানা মহলে।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কার এবং জনপ্রতিনিধির অস্ত্র প্রদর্শন কতটা গ্রহণযোগ্য — এসব প্রশ্ন ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে।
পরিস্থিতির জেরে রবিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের সেই নির্দেশনার পরই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সরকারপ্রধানের নির্দেশের পর সোমবারের সংবাদ সম্মেলন ছিল সেই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। প্রেস ক্লাবে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের পদত্যাগের কথা জানান, যার মধ্য দিয়ে তাঁর প্রতিমন্ত্রিত্বের অবসানের প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আসে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়ার শেষ ধাপটিও সম্পন্ন হলো। এখন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদটি শূন্য থাকবে, যতক্ষণ না নতুন কাউকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
শনিবার থেকে মঙ্গলবার — মাত্র চার দিনের ঘটনাপ্রবাহে একজন প্রতিমন্ত্রীর মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নেওয়ার এই ঘটনা দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। গেন্ডারিয়ার ঘটনা, তার পরের সমালোচনা, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা এবং সবশেষে রাষ্ট্রপতির গ্রহণ ও প্রজ্ঞাপন — প্রতিটি ধাপই ছিল জনপরিসরে তীব্র আগ্রহের কেন্দ্রে।
এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সরকারের ভেতরে জবাবদিহির প্রশ্নটিও সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ায় ঘটনাটি শুধু একজন প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা সরকারের অবস্থানের প্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে — মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং গেন্ডারিয়ার ঘটনাকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নগুলোর বিষয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা ব্যবস্থা আসে কি না।
আপাতত প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে ইশরাক হোসেন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে মন্ত্রিসভায়। তবে যে বিতর্ক থেকে এই পদত্যাগের সূত্রপাত, রাজনৈতিক আলোচনায় তার রেশ আরও কিছুদিন থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।





