চিতলমারীতে রোগীর চাপে হাসপাতালে ঠাঁই নেই, জনবলসংকটে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা
বাগেরহাটের চিতলমারীতে সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে সেখানে আর ঠাঁই মিলছে না। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা নিতে আসায় হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম চাপের মুখে পড়েছে। এর সঙ্গে জনবলসংকট যুক্ত হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ছে। ভর্তি রোগীর পাশাপাশি বহির্বিভাগেও চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা কম নয়। শয্যা ও জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক রোগীকে কষ্ট করে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় অল্প সংখ্যক কর্মী দিয়ে বিপুল রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। এতে করে প্রতিটি রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
রোগীর চাপ আর জনবলসংকট—এই দুই সমস্যা একসঙ্গে হাসপাতালের সেবার মানের ওপর প্রভাব ফেলছে। জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে, কারণ সীমিত জনবল দিয়ে একই সময়ে অনেক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে।
চিতলমারী ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই সরকারি হাসপাতাল। এলাকার মানুষের কাছে সহজে পৌঁছানো যায় এমন বিকল্প চিকিৎসাকেন্দ্র সীমিত হওয়ায় সব ধরনের রোগীই এখানে ভিড় করেন। ফলে হাসপাতালটির ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছেই।
সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, জায়গার অভাবে অনেককে অস্বস্তিকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। জনবল কম থাকায় সেবা পেতে সময়ও লাগছে বেশি। এলাকার মানুষ দ্রুত এই পরিস্থিতির উন্নতি চান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, হাসপাতালটির জনবলসংকট দূর করা গেলে রোগীর চাপ সামলানো অনেকটাই সহজ হবে। শূন্য পদে নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় কর্মী বাড়ানো হলে সেবার গতি ও মান দুটোই বাড়বে বলে তাদের মত।
উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জনবলসংকট নতুন কোনো সমস্যা নয়। দেশের অনেক এলাকাতেই সরকারি হাসপাতালগুলো সীমিত জনবল নিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। চিতলমারীর চিত্র সেই বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ।
রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। সেবা ব্যাহত হওয়ার খবরে এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ দ্রুত জনবল বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, যাতে চিতলমারীর মানুষ আর ভোগান্তি ছাড়াই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।






