ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩৬৬ জন
এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ জনে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিদিনের মতোই নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যে দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১ হাজার ৩৬৬ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এক দিনে এত সংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জনে। বছরের শুরু থেকে হিসাব করলে আক্রান্তের এই সংখ্যা ডেঙ্গুর বিস্তারের ভয়াবহতাই তুলে ধরে।
বিজ্ঞপ্তির বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে—৬৩৮ জন। রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকাই এখনো ডেঙ্গুর প্রধান কেন্দ্র হয়ে আছে।
ঢাকার বাইরের চিত্রও উদ্বেগজনক। বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, খুলনা বিভাগে ১৪১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২৮ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন গত এক দিনে।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৮০ জন, রংপুর বিভাগে ৭২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ দেশের প্রায় সব বিভাগেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সংখ্যার দিক থেকে ঢাকাই শীর্ষে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, জ্বর হলেই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে পরীক্ষা করানো জরুরি। ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে যাওয়া ও শরীরে তরলের ঘাটতি দেখা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম জোরদার করা ছাড়া এই রোগ ঠেকানো কঠিন।
মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চাপ সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডেঙ্গু পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে আসছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।





