আতালের সেঞ্চুরি আর রশিদের ঘূর্ণিতে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে উড়িয়ে দিল আফগানিস্তান, ফাইনালের চাপে বাংলাদেশ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে উড়ন্ত সূচনা করেছে আফগানিস্তান। জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তারা আসরের প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। সেদিকুল্লাহ আতালের দুর্দান্ত শতক আর লেগস্পিনার রশিদ খানের ঘূর্ণিতে পর্যুদস্ত হয়েছে জিম্বাবুয়ে।
এই বড় জয়ের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ওপরও। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে এমনিতেই ব্যাকফুটে তাওহীদ হৃদয়ের বাংলাদেশ। আফগানদের বিশাল জয়ে নেট রান রেটের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে গেছে, ফলে ফাইনালে যেতে হলে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের সামনে।
ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং চালায় আফগানিস্তান। ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের সাবলীল ব্যাটে মাত্র সপ্তম ওভারেই দলীয় পঞ্চাশ স্পর্শ করে তারা।
দলীয় ৫০ রানে গুরবাজ ব্যক্তিগত ২৫ রানে ফিরলে ক্রিজে আসেন আতাল। দ্বিতীয় উইকেটে জাদরান ও আতাল ১৪০ রানের চমৎকার জুটি গড়ে দলের বিশাল সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন।
জাদরান ৯৬ বলে ৯টি চার ও দুটি ছক্কায় ৯০ রান করে ব্র্যাড ইভান্সের বলে আউট হন। ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো নব্বইয়ের ঘরে থামতে হয় তাঁকে; সেঞ্চুরির এত কাছে গিয়েও তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি।
জাদরানের বিদায়ের পরও দৃঢ়তা ধরে রেখে ব্যক্তিগত শতক তুলে নেন সেদিকুল্লাহ আতাল। দলীয় ২৫৯ রানে তিনি ব্যক্তিগত ১০২ রান করে আউট হন।
তবে আতালের বিদায়ের পরই নাটকীয় ব্যাটিং ধসে পড়ে আফগানিস্তান। শেষ ৫ দশমিক ২ ওভারে মাত্র ৩৫ রান যোগ করতেই শেষ পাঁচ ব্যাটারকে হারিয়ে ৪৯ দশমিক ৪ ওভারে ২৯৪ রানে গুটিয়ে যায় তারা। জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে আর্নেস্ট মাসুকু ৪৪ রানে ও ব্র্যাড ইভান্স ৪৭ রানে তিনটি করে উইকেট নেন।
জবাবে ২৯৫ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আফগান বোলিং তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। দলীয় মাত্র ৪৩ রানেই টপ অর্ডারের চার উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে তারা।
পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল ৬৪ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে ৩২তম ওভারে ব্যক্তিগত ৩১ রানে বার্লের বিদায়ে সেই প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে, আর ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন রাজাও।
এরপর জিম্বাবুয়ের লোয়ার অর্ডারে একাই ধস নামান রশিদ খান। মাত্র ২৯ রানের ব্যবধানে শেষ ছয় উইকেট হারিয়ে ৩৮ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। রশিদ খান ৮ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন, আর পেসার ফজলহক ফারুকী ১৫ রানে নেন দুটি উইকেট।
ম্যাচে অন্তত ১৯৬ রান তুলতে পারলে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হতো জিম্বাবুয়ের। তা না হওয়ায় তিন দলের জন্যই ফাইনালের পথ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
সব মিলিয়ে এখন সিরিজের শেষ লিগ ম্যাচটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় ছাড়া বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার পথ নেই বললেই চলে; অন্যদিকে আফগানরা চাইবে এই ছন্দ ধরে রেখে সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত করতে।



