ইনফান্তিনোকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিল উয়েফা, নথিপত্র প্রকাশের চরমপত্র ফিফাকে
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সঙ্গে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফার টানাপোড়েন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ফিফার বিতর্কিত কয়েকটি সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে উয়েফা। নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা গুরুতর প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশের জন্য এই চরমপত্র দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ফিফা কাউন্সিলের সভায় বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বসংক্রান্ত একটি বিতর্কিত পরিকল্পনার জন্য ইনফান্তিনো দুঃখ প্রকাশ করলেও কীভাবে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। সেই অপূর্ণতাই উয়েফার কড়া অবস্থানের পেছনের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েফার মহাসচিব থিওদোর থিওদোরিদিস ফিফাকে আট পৃষ্ঠার একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ফিফা এখনো মৌলিক কিছু প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর দেয়নি এবং কাঙ্ক্ষিত নথিপত্রও সরবরাহ করেনি।
ওই চিঠিতে মূলত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ নেওয়ার পরিকল্পনা, ফিফা শান্তি পুরস্কার এবং বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে।
এফএফই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মতো মহাযজ্ঞের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পরিকল্পনাটি বাতিল করা হলেও কীভাবে এই স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং কেন যথাসময়ে ফিফা কাউন্সিলকে এতে সম্পৃক্ত করা হয়নি, সে বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দাবি করছে উয়েফা।
উয়েফা মহাসচিব চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো নথি বা তথ্য প্রকাশে অপারগতা থাকলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ আলাদাভাবে জানাতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতীতে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না।
এ ঘটনায় ইনফান্তিনোর কড়া সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সভাপতি ও ফিফার সহসভাপতি ডেবি হিউইট। তিনি মন্তব্য করেন, ইনফান্তিনো যদি এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারেন, তবে তিনি আর ফিফা সভাপতি পদে থাকার যোগ্য নন।
২ নভেম্বরের মধ্যে ফিফা এই চিঠির জবাব দিতে ব্যর্থ হলে উয়েফা ঠিক কী ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। তবে নথিপত্র ও স্বচ্ছতার এই দাবিকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ দুই সংস্থার মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফিফা ও উয়েফার সম্পর্কের এই টানাপোড়েন বিশ্ব ফুটবলের শাসনব্যবস্থার জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। ইউরোপীয় ফুটবল বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিশালী অঞ্চলগুলোর একটি, আর তাদের সংস্থার পক্ষ থেকে সরাসরি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ফিফা সভাপতির ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এখন সবার চোখ ২ নভেম্বরের দিকে। ফিফা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব ও নথিপত্র দিতে পারে কিনা, তার ওপরই নির্ভর করছে এই বিরোধ কোন দিকে মোড় নেয়।



