…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আমেরিকা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আমেরিকা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি গ্রামীণ আমেরিকাতেই নড়বড়ে রিপাবলিকানরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা হয়ে উঠেছে তাদের ঐতিহ্যবাহী শক্ত ঘাঁটি—গ্রামীণ আমেরিকা। ফক্স নিউজের সর্বশেষ ‘পাওয়ার র‍্যাংকিংস’ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয়, বেকারত্ব আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার ঘিরে উদ্বেগ বদলে দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ হিসেবে পরিচিত অঞ্চলগুলোর রাজনৈতিক হিসাব।

এই শতাব্দীতে রিপাবলিকানদের ভালো-মন্দ নির্বাচনী রাত গেছে অনেক, কিন্তু প্রায় সবসময়ই তারা ভরসা রাখতে পেরেছে দেশের প্রাণকেন্দ্রের ভোটারদের ওপর। একসময় সমানভাগে বিভক্ত থাকা গ্রামীণ ভোটাররা গত দুই দশকে ক্রমশ রিপাবলিকানমুখী হয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ভোটারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন।

কিন্তু এখন চিত্র বদলাচ্ছে। বর্তমানে গ্রামীণ ভোটারদের অর্ধেকেরও কম বলছেন, তারা নভেম্বরে আবার রিপাবলিকান পার্টিকে সমর্থন দেবেন। অর্থাৎ যে জনগোষ্ঠী ছিল দলটির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি, সেখানেই সমর্থনে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনৈতিক চাপ। অন্য জনগোষ্ঠীগুলোর মতো গ্রামীণ আমেরিকানরাও বিল পরিশোধ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক এক জরিপে ১৯ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার বলেছেন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ই তাদের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সমস্যা; তার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে গ্যাস ও জ্বালানির খরচ।

ট্রাম্প প্রশাসন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রসারের কথা বলে এই উদ্বেগ কাটানোর চেষ্টা করলেও গ্রামীণ ভোটাররা এসব প্রশ্নেও হতাশ। গ্রামীণ ভোটারদের এক-চতুর্থাংশেরও কম মনে করেন অর্থনীতি ভালো অবস্থায় আছে। বেকারত্বও বড় প্রশ্ন: ৮ শতাংশ ভোটার চাকরির অভাব ও বেকারত্বকে তাদের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সমস্যা বলেছেন, আর মাত্র ২৮ শতাংশ মনে করেন নিজেদের এলাকায় ভালো বা চমৎকার চাকরির সুযোগ আছে।

ডেটা সেন্টারও এখন গ্রামীণ রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে। মাত্র ২ শতাংশ ভোটার এটিকে তাদের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সমস্যা বললেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, সংখ্যাটি আপাতদৃষ্টিতে যা মনে হয় তার চেয়ে বড়। প্রতি ৫০ জন গ্রামীণ ভোটারের একজন আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় কিংবা চাকরির চেয়েও ডেটা সেন্টারকে বড় সমস্যা মনে করছেন।

এসব কারণে দেশের মানচিত্রজুড়েই কঠিন অবস্থায় পড়েছে রিপাবলিকানরা। ওহাইও ও আইওয়ার মতো রাজ্যগুলো বছরের বেশিরভাগ সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ থাকা এবং ট্রাম্পের দ্বি-অঙ্কের ব্যবধানে জেতা আসনগুলোতেও ব্যবধান কমে যাওয়ার পেছনে এই গ্রামীণ অসন্তোষকেই কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জরিপের বাইরেও গ্রামীণ ভোটের ভিত নড়বড়ে হওয়ার লক্ষণ মিলছে। ওয়াইয়োমিংয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী চাক গ্রের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে ট্রাম্প কিংবা রিপাবলিকান পার্টির নামই নেই। অথচ দুই বছর আগে এই রাজ্যেই ট্রাম্প ৭১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন—যেকোনো রাজ্যে, যেকোনো নির্বাচনে সেটাই ছিল তার সেরা ফল।

গ্রামীণ ভোটারদের কম উপস্থিতি কিংবা দলবদল ফ্লোরিডা, মিসিসিপি ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো রাজ্যের অনেক আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও প্রত্যাশার চেয়ে কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে বলে বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি জটিলতা—স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উত্থান। আইডাহো, মন্টানা, নেব্রাস্কা ও সাউথ ডাকোটা—এই চারটি গ্রামীণ-প্রধান রাজ্যে এবার প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন। তারা কংগ্রেস সদস্যদের মেয়াদ সীমিত করা ও লবিং নিষিদ্ধ করার মতো প্রতিষ্ঠানবিরোধী প্রস্তাব তুলছেন এবং জোর দিচ্ছেন দুর্নীতির ওপর, যা ফক্স নিউজের গত সপ্তাহের জরিপে ভোটারদের শীর্ষ উদ্বেগ ছিল।

এই চার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সবাই বলেছেন, নির্বাচিত হলে তারা কোনো দলের সঙ্গেই জোট বাঁধবেন না, কিংবা নিজেদের আলাদা স্বতন্ত্র ককাস গঠন করবেন। ডেমোক্র্যাটদের ব্র্যান্ড দেশজুড়ে এখনো তুলনামূলক দুর্বল এবং এই রাজ্যগুলোতে আরও দুর্বল হওয়ায় দলটি চারটি রাজ্যের তিনটিতেই কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে; মন্টানায় একজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ব্যালটে থাকলেও তার প্রতি সমর্থন কমেছে।

সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে হতাশ ভোটাররা বাড়িতে বসে থাকেন, ফলে ক্ষমতাসীন দল কম ব্যবধানে হলেও জিতে যায়। কিন্তু এবার সেই ভোটারদের সামনে ভিন্ন প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকায় ব্যবধান আরও সংকুচিত হতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের বাকি সময়ে গ্রামীণ ভোটারদের এই মনোভাবই তাই রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে থাকবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আমেরিকা বিভাগের আরও খবর

আমেরিকা

ফ্রান্সের সহিংসতাই আমেরিকার ভবিষ্যৎ, সতর্ক করলেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান কিথ সেলফ

ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভ ও দাঙ্গার জন্য ব্যাপক অভিবাসনকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের প্রভাবশালী এক রিপাবলিকা…

আমেরিকা

বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত, মুম্বাইয়ে রুবিও-জয়শঙ্কর বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মুম্বাইয়ে বৈঠক করেছেন, যেখানে দুই দেশ জ্বালানি সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং …

আমেরিকা

সরকারি সংস্থায় চীনের ডিপসিক এআই ব্যবহার নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

চীনা স্টার্টআপ ডিপসিকের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহার বন্ধ করতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। দ্রুত বদলে যা…

আমেরিকা

‘ক্যাওস ইঙ্ক’ নেটওয়ার্ক বেড়ে ১০১ সংগঠনে, নতুন দফা বিক্ষোভের প্রস্তুতি ইউরোপজুড়ে

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের দুই দিন পর নতুন করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্দোলনকারীরা। আন্তর্জাতিক এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ সংগঠিত, …