প্রাবোওর দুই বছরে অর্থনীতি আর জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থী বিক্ষোভের ডাক
দুর্বল অর্থনীতি, শেয়ারবাজারের দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে দেশটির তরুণ ও শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী জাকার্তায় সাড়ে ৯ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ক্ষমতায় দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দিনটি তাই সরকারবিরোধী অসন্তোষ প্রকাশের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
জাকার্তা পুলিশের মুখপাত্র বুদি হারমান্তো জানিয়েছেন, অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করবেন। এ জন্য প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক বনাঞ্চলের আগুন, শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন এবং দেশটির মুদ্রা রুপিয়ার দরপতনকে বিক্ষোভের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
শিক্ষার্থীদের মতে, শেয়ারবাজারের এই ধস এবং রুপিয়ার মান কমে যাওয়া—দুটোই ‘জাতীয় অর্থনীতির ভঙ্গুরতার’ লক্ষণ। তবে বিক্ষোভে কতজন অংশ নেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস জাকার্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভে ব্যানার টাঙিয়ে জলবায়ুসংকট মোকাবিলা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি পরিবেশ প্রশ্নটিও এভাবে বিক্ষোভের আলোচনায় যুক্ত হয়েছে।
২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন প্রাবোও সুবিয়ান্তো। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই জেনারেল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু তার সরকারের বিভিন্ন ব্যয়বহুল কর্মসূচি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তিনি সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী মহল এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় জরিপ সংস্থা সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের এক জরিপে বলা হয়েছে, সুবিয়ান্তোর প্রতি জনসমর্থন গত বছরের নভেম্বরের ৮১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে চলতি মাসে কমে ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। দুই বছরের মধ্যে সমর্থন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসাটাই শিক্ষার্থী বিক্ষোভের পেছনের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে।
এর আগেও চলতি বছরের আগস্ট মাসে আইনপ্রণেতাদের আবাসন ভাতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও পুলিশি আচরণের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বড় আন্দোলন শুরু হয়েছিল। একপর্যায়ে তা সহিংস রূপ নেয় এবং সে সময় কয়েকশ মানুষকে আটক করা হয়। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই এবারের কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সতর্ক।
এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত বিক্ষোভ কতটা বড় আকার ধারণ করে এবং সরকার শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক দাবিগুলোর জবাবে কী পদক্ষেপ নেয়। জনসমর্থনের ধারাবাহিক পতনের মধ্যে প্রাবোও সরকারের জন্য এই বিক্ষোভ সামলানো হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।


