২০২৭ সালে ইউরোপে বিমানভাড়া বাড়তে পারে ২০ শতাংশ পর্যন্ত, সতর্ক করলেন রায়ানএয়ারের প্রধান
আগামী বছর ইউরোপে বিমানভাড়া রেকর্ড পরিমাণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও'লিয়ারি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলো চাপে পড়েছে, আর সেই চাপের ফল ভোগ করতে হবে যাত্রীদের।
ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে ও'লিয়ারি বলেন, অনেক বিমান সংস্থাই জ্বালানির বাড়তি দামের বিরুদ্ধে নিজেদের সুরক্ষিত (হেজ) রাখেনি। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, এই চাপে কিছু সংস্থা দেউলিয়া হবে এবং অধিগ্রহণের ঘটনাও ঘটবে। এসব মিলিয়ে বিমান টিকিটের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ও'লিয়ারির ভাষায়, “আগামী বছর ইউরোপে বিমানভাড়া বাড়বে—আমার ধারণা ১০, ১৫, এমনকি ২০ শতাংশ পর্যন্ত। আগামী ১২ মাসে ইউরোপে বিমানভাড়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি দেখা যাবে বলেই আমি মনে করি।”
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জ্বালানি সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়ায় গত কয়েক মাসে জেট জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোর ব্যয়ের বড় অংশই এই জ্বালানি। বিমান পরিবহন সংস্থা আইএটিএ-র আগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালজুড়ে জেট জ্বালানির দাম হবে ২০২৫ সালের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি—বছরে গড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৫২ ডলার, যেখানে ২০২৫ সালে তা ছিল ৯০ ডলার। এতে সংস্থাগুলোর মুনাফা তীব্রভাবে কমে যাবে।
ও'লিয়ারি জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান সংঘাত শুরুর সময় রায়ানএয়ারসহ অনেক ইউরোপীয় সংস্থা ২০২৬ সালের জ্বালানি চাহিদা হেজ করে রেখেছিল। সে সময় রায়ানএয়ারের ৮০ শতাংশ জ্বালানি ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলারে হেজ করা ছিল।
তবে ইউরোপের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থার এই প্রধান বলেন, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে রায়ানএয়ারসহ অধিকাংশ ইউরোপীয় সংস্থার উল্লেখযোগ্য কোনো হেজিং সুরক্ষা নেই—তেলের দাম উঁচু থাকলে তাদের সরাসরি ধাক্কা খেতে হবে।
তাঁর ভাষায়, “আগামী বছর আমরা ৮৫ শতাংশই অনাবৃত (আনহেজড), আর অন্যান্য ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর অবস্থাও প্রায় একই রকম।” রায়ানএয়ারের ২০২৭ সালের হেজিং চুক্তি তাদের জ্বালানি ব্যয়ের মাত্র ১৫ শতাংশকে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারে আচ্ছাদন করে, অথচ বর্তমানে স্পট দর ঘুরছে এর প্রায় দ্বিগুণ পর্যায়ে।
ইজিজেট জুলাইয়ে জানিয়েছিল, তাদের বার্ষিক জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। সংস্থাটি ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের জ্বালানি চাহিদার ৬২ শতাংশ এবং দ্বিতীয়ার্ধের ৩৭ শতাংশ হেজ করেছে। জ্বালানি বাঁচাতে অক্টোবরে শীতকালীন সূচি থেকে ৭ লাখ আসন কমানোর ঘোষণাও দিয়েছে ইজিজেট।
ব্রাসেলস সফরকালে ও'লিয়ারি ঘোষণা দেন, বেলজিয়াম সরকার জানুয়ারিতে বিমান কর ২ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ৭ ইউরো করায় তিনি শীতকালীন সূচি থেকে রায়ানএয়ারের ২০টি রুট ও ১০ লাখের বেশি আসন বাতিল করছেন।
বিমান খাতের হতাশাজনক ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করা সর্বশেষ শীর্ষ নির্বাহী ও'লিয়ারি। খাত নেতারা বলছেন, জ্বালানির এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে কিছু সংস্থা হিমশিম খাবে। যাত্রী জরিপে দেখা গেছে, ভ্রমণকারীরা বেশি ভাড়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং বেশি খরচ করতেও রাজি—তবে কত দিন তারা এই বাড়তি ভাড়া বহন করতে পারবেন, তা সংস্থাগুলো জানে না।




