জামায়াত কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেনি, বিএনপিকে কড়া বার্তা গোলাম পরওয়ারের
জামায়াতে ইসলামী কখনোই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই বক্তব্যে তিনি বিএনপির রাজনীতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কখনোই আওয়ামী লীগের সাথে জোট করেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে বিএনপির বিরুদ্ধে সব বিরোধী দল মিলে লিয়াজোঁ কমিটি করেছিল।’ তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ওঠা আলোচনার জবাব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট কী, তা ৭ মাসের মধ্যেই ভুলে গেছে বিএনপি। চাঁদাবাজি, লুটপাট, নিজ দলের লোক বসানো, জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাই ফ্যাসিবাদ। জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে রাজপথে আন্দোলন করছে। অথচ বিএনপি তা ধারণ না করে দমন-পীড়নের দিকে হাঁটছে।’
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি দল গুলিয়ে ফেলছে বিএনপি। দুর্নীতি ও দলীয় কর্মীদের কথা বললে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হচ্ছে। জুজুর ভয় দেখিয়ে সরকার নিজেই স্বৈরাচারকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে, জামায়াত নয়। জুজুর ভয় দেখিয়ে সব বিরোধীদলকে পাল্টা দোষারোপ করেছে।’ তাঁর বক্তব্যে সরকার ও বিএনপি—দুই পক্ষের দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ; বিচার কার্যকরের পর সরকারের ঘুম ভেঙেছে। এটি পুরোপুরি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াত ও বিএনপির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিনের। একসময়ের জোটসঙ্গী এই দুই দলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে দূরত্ব ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চোখে পড়ছে। গোলাম পরওয়ারের মঙ্গলবারের বক্তব্য সেই টানাপোড়েনেরই আরেকটি প্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অতীতের যুগপৎ কর্মসূচি ও লিয়াজোঁ কমিটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সহযোগিতা ছিল একটি নির্দিষ্ট দাবিতে বিরোধী দলগুলোর যৌথ অবস্থান, কোনো দলের সঙ্গে জোট নয়—এই পার্থক্যটাই তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন।
‘জুলাইকে ধারণ করা’র প্রশ্নে জামায়াত নিজেদের অবস্থানকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরছে। গোলাম পরওয়ারের ভাষায়, জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে রাজপথে আন্দোলন করছে, আর বিএনপি সেই পথ থেকে সরে দমন-পীড়নের দিকে হাঁটছে—এই অভিযোগ দুই দলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরে।
চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দলীয় লোক বসানোর অভিযোগ তুলে তিনি ফ্যাসিবাদের নিজস্ব সংজ্ঞাও হাজির করেছেন। তাঁর মতে, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাই ফ্যাসিবাদ। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নৈতিক ও রাজনৈতিক—দুই ধরনের আক্রমণই শাণিত করেছেন।
সরকারের বিরুদ্ধে ‘জুজুর ভয়’ দেখানোর অভিযোগ এনে তিনি বলেছেন, স্বৈরাচার ফিরিয়ে আনার চেষ্টার অভিযোগ জামায়াতের দিকে নয়, বরং সরকারের দিকেই যায়। বিরোধী দলগুলোকে পাল্টা দোষারোপের রাজনীতিরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
এই বক্তব্যের পর বিএনপি বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এলে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। আপাতত গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য দিনের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে।
আগামী দিনে জামায়াতের রাজপথের কর্মসূচি ও অন্য দলগুলোর প্রতিক্রিয়াই বলে দেবে, এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুধু কথার লড়াইয়ে সীমিত থাকবে, নাকি জোট ও সমীকরণের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে।






