ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে গতকাল তার ঘোষিত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এক দিনের মধ্যে পদত্যাগপত্র গ্রহণ ও প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, “আত্মরক্ষার স্বার্থেই সাময়িকভাবে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম। এ ঘটনায় আমি কোনো আইন লঙ্ঘন করিনি। তবে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে আমি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পদত্যাগের কারণ হিসেবে দলের ভাবমূর্তি ও সম্মানের প্রশ্নটিকেই সামনে এনেছিলেন। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল, কবে নাগাদ পদত্যাগ কার্যকর হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে ইশরাক হোসেন তার লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।
ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন আহমেদ আযম খান। প্রতিমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ায় এখন এই দায়িত্বে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, সেদিকে নজর থাকবে।
প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে তার কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সাধারণ দলীয় কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে নিজের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তার দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
পদত্যাগের ঘোষণা থেকে প্রজ্ঞাপন পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ ছিল দ্রুত। সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা, সন্ধ্যায় লিখিত পদত্যাগপত্র জমা, আর মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির গ্রহণ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন—এক দিনের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে পদ ছাড়ার ঘটনা সরকার ও দল—দুই ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যেখানে তিনি নিজে দলের ভাবমূর্তি রক্ষাকেই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সেখানে এই পদত্যাগের রাজনৈতিক বার্তা নিয়েও আলোচনা চলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন সামনের প্রশ্ন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ইশরাক হোসেন সংসদ সদস্য ও দলীয় কর্মী হিসেবে তার ঘোষিত মাদকবিরোধী কার্যক্রম কীভাবে এগিয়ে নেন। সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর।





