সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার চেয়ে তাহিরপুরে মানববন্ধন, মোতালিবের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তাহিরপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে উপজেলার বাদাঘাট বাজারে এই মানববন্ধন হয়। এতে সাংবাদিকদের পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা এবং দোয়ারাবাজারে সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা সাংবাদিক সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
বক্তারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তাঁদের মতে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বারবার হামলা ও হত্যার শিকার হলেও বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার তাহিরপুর প্রতিনিধি আবির হাসান-মানিক, দৈনিক খোলা কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি রোকন উদ্দিন এবং দৈনিক মানবজমিনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এমএ রাজ্জাক।
আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইত্তেফাকের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আলম সাব্বির, সমাজসেবক ও সংগঠক আবুল হোসেন, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ এবং গণকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সারোয়ার ইবনে গিয়াস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন রাফি, দৈনিক বাংলার তাহিরপুর প্রতিনিধি আবুল কাশেম, এনটিভি মাল্টিমিডিয়ার উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া এবং দৈনিক আলোর সকাল অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরিচালক মো. আ. মান্নান।
উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নিউজ বাংলার তাহিরপুর প্রতিনিধি মো. বাবুল মিয়া, দৈনিক এদিনের তাহিরপুর প্রতিনিধি সামায়ুন এবং দৈনিক হাওর বাংলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম সোহাগসহ অনেকে।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সাংবাদিকতা এমনিতেই নানা ঝুঁকির মধ্যে করতে হয়; এর মধ্যে সাংবাদিক হত্যা ও হামলার ঘটনা স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মানববন্ধনে সেই উদ্বেগই প্রতিধ্বনিত হয়।
বক্তারা আলিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দোয়ারাবাজারে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে পরবর্তী কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন আয়োজকরা।
হাওরপাড়ের ছোট্ট উপজেলা তাহিরপুরের এই কর্মসূচি প্রমাণ করে, সাংবাদিক নিরাপত্তার প্রশ্নটি এখন শুধু রাজধানীর আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই—মফস্বলের সংবাদকর্মীরাও নিজেদের সহকর্মীর হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছেন। এখন প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন তাঁরা।



