আলোচিত মাদক স্পট ঘুন্টিঘরে আবার পুলিশের অভিযান, আটক ৩; আগের দিন যৌথ অভিযানে ধরা পড়েছিল ১৫ জন
রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং-সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকায় আবারও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবারের এই অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকাটি সম্প্রতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে অভিযান এবং তাঁর পদত্যাগের ঘটনায় সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা সবাই মাদকসেবী। তাঁদের কাছ থেকে গাঁজাসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযান শুরু হলে এলাকায় থাকা ব্যক্তিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। অনেকে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। পরে ওই এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ঘুন্টিঘরে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। তবে এখানে ভাসমান মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীরাই বেশি আসেন, তাই জায়গাটি পুরোপুরি নির্মূল করা যাচ্ছে না। পুলিশ স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।
এর ঠিক আগের দিন, সোমবার বিকেলে একই স্পটে যৌথ অভিযান চালায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সেই অভিযানে ১৫ জনকে আটক করা হয়।
সোমবারের অভিযানে আটক ব্যক্তিদের পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক সেবনের জন্য ব্যবহৃত অস্থায়ী কাগজের ছাউনি ও ঝুপড়িগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরপর দুই দিনের এই অভিযানে বোঝা যাচ্ছে, ঘুন্টিঘরকে মাদকমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন জোরদার তৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু ওসির বক্তব্যেই স্পষ্ট, ভাসমান বিক্রেতা ও সেবীদের আনাগোনা থাকায় কাজটি সহজ নয়।
ঘুন্টিঘর আলোচনায় আসে গত শনিবার, ১৭ অক্টোবর। সেদিন ওই একই স্থানে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
ওই ঘটনার পর ইশরাক হোসেন প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে ঘুন্টিঘরের প্রতিটি অভিযান এখন শুধু একটি মাদকবিরোধী কার্যক্রম নয়, রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং-সংলগ্ন এই এলাকাটি প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের পরিচিত স্পটে পরিণত হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো মেলেনি।
মঙ্গলবারের অভিযানে আটক তিনজনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আটক ব্যক্তিরা মাদকসেবী হওয়ায় তাঁদের নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে।
এখন প্রশ্ন হলো, পরপর অভিযানের এই ধারাবাহিকতা কতদিন ধরে রাখা যায় এবং ঘুন্টিঘরকে সত্যিকার অর্থে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হয় কি না। পুলিশ স্থায়ী সমাধানের কথা বললেও সেই সমাধানের রূপরেখা এখনো স্পষ্ট নয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী অভিযান ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগের দিকেই এখন নজর থাকছে এলাকাবাসীর।




