সর্বকালের সেরাদের তালিকায় মেসি-রোনালদোরা, নেই ম্যারাডোনা—কেন এমন?
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই—দিয়েগো ম্যারাডোনার প্রসঙ্গ এলে বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ সামনে আসবেই। ২০২০ সালে প্রয়াত ম্যারাডোনার 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি', 'হ্যান্ড অব গড', বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি নিয়ে এখনো আলোচনা হয়। তবে একটি তালিকায় নেই আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তির নাম, যদিও লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাদের নাম সেখানে আছে।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে বসবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি'অর অনুষ্ঠান। জনগণের ভোটে বেছে নেওয়া হবে ব্যালন ডি'অর জয়ী খেলোয়াড়। সর্বকালের ব্যালন ডি'অর জয়ীদের প্রার্থী তালিকায় মেসির সঙ্গে দুই রোনালদো, মার্কো ফন বাস্তেনরা আছেন। কিন্তু নেই ম্যারাডোনা।
এর কারণ জানিয়েছে আয়োজকরা: ফ্রান্স ফুটবলের নতুন শর্ত অনুযায়ী প্রার্থী হতে হলে অন্তত দুইবার ব্যালন ডি'অর জিততে হবে। আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি একবারও এই পুরস্কার জেতেননি।
কিন্তু ম্যারাডোনা কি কখনোই এই পুরস্কারের যোগ্য ছিলেন না? প্রশ্নের উত্তরে ফিরে যেতে হয় তাঁর সোনালি যুগে—১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে নিঃসন্দেহে তিনি ছিলেন বিশ্বের সেরা ফুটবলার।
১৯৮৬ সালে নাপোলি লিগে তৃতীয় স্থান অর্জন করলেও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিততে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। নিঃসন্দেহে সেবার তিনিই সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিততে পারতেন।
কিন্তু আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে টপকে সেবার ব্যালন ডি'অর জিতেছিলেন ইউক্রেনীয় ফুটবলার ইগর বেলানভ। তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের জাতীয় দলের পাশাপাশি ডায়নামো কিয়েভের হয়ে খেলতেন। তাঁর দল সে বছর ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপও জিতেছিল।
১৯৮৭ সালেও ম্যারাডোনা দারুণ এক মৌসুম কাটিয়েছিলেন। সে বছর তিনি সিরি আ, কোপা ইতালিয়া—দুটি শিরোপাই জিতেছিলেন। তবে ব্যালন ডি'অর জেতেন রুদ খুলিত। তিনি পিএসভি আইন্দহফেনের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন এবং দলটি নেদারল্যান্ডসের এরেদিভিসি লিগের শিরোপা জিতেছিল।
১৯৮৮ সালে ব্যালন ডি'অর জেতেন মার্কো ফন বাস্তেন। এসি মিলানের হয়ে সিরি 'আ', নেদারল্যান্ডসের হয়ে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয়—এই দুই সাফল্য তাঁর পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সে বছর ম্যারাডোনা ১৫ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন, আর নাপোলি লিগে দ্বিতীয় হয়েছিল।
ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ আটবার ব্যালন ডি'অর জেতেন মেসি। এই তালিকায় দুইয়ে থাকা রোনালদো জিতেছেন পাঁচবার। ফন বাস্তেনের মতো তিনবার করে ব্যালন ডি'অর জিতেছেন মিশেল প্লাতিনি ও ইয়োহান ক্রুইফ। ব্রাজিলের রোনালদো ও জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার জিতেছেন দুইবার করে।
সুতরাং সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি'অর জয়ীদের মনোনয়নের তালিকায় ম্যারাডোনার অনুপস্থিতি তাঁর মাহাত্ম্যকে খাটো করে না—এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক শর্তের ফল। দুইবারের বিজয়ী না হওয়ায় তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি।
তবে ফুটবল ইতিহাসে তাঁর স্থান নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে একাই একটি দলকে শিরোপা এনে দেওয়ার কীর্তি তাঁকে চিরকালের মহানায়ক করে রাখবে।
আগামী ২৬ অক্টোবরের অনুষ্ঠান ঘিরে ফুটবলভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে। তবে সমর্থকদের মনে এই প্রশ্ন থেকেই যাবে—একবারও ব্যালন না জিতেও যিনি সর্বকালের সেরাদের সারিতে, তাঁর নাম কেন মনোনয়নের তালিকায় নেই।




