গোলের বন্যায় নতুন রেকর্ড চ্যাম্পিয়নস লিগে: প্রতি ম্যাচে গড় ৪.১৬ গোল
ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগে এবারের মৌসুমে গোলের বন্যা বইছে। এখন পর্যন্ত হওয়া ১৮৭টি গোল এসেছে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৪.১৬ গোল হারে—যা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসেই নয়, ইউরোপিয়ান কাপের পুরো ইতিহাস ধরলেও এই হার তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর চেয়ে বেশি গোলের হার ছিল শুধু ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে (৪.১৯) এবং ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে (৪.৩৮)।
মঙ্গলবার নয়টি ম্যাচে হয়েছে ৪০টি গোল। এর মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটি এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে, যেখানে হ্যাটট্রিক করেছেন ফিল ফোডেন। পিএসজি-বার্সেলোনা রোমাঞ্চকর ম্যাচেও নজর কেড়েছেন দুয়ে।
গত সপ্তাহের চিত্র ছিল আরও বিস্ময়কর। গত বুধবার হয়েছে ৪৬ গোল—চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলের দিন। এর চেয়ে বেশি গোল হয়েছে শুধু ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ মৌসুমের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচের দিনগুলোতে, যেদিন ১৮টি করে ম্যাচ হয়েছিল।
গত সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবার মিলিয়ে ৭৮ গোল হওয়ায় সেটি হয়ে গেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচডে, অর্থাৎ দ্বিতীয় ম্যাচডে। প্রথম ম্যাচডের ৬৯ গোলও ছিল তখন পর্যন্ত নতুন লিগ পর্ব চালুর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এই গোলবন্যা নিয়ে বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইংল্যান্ড উইঙ্গার অ্যাশলি ইয়াং বলেন, ‘দেখুন কত গোল হচ্ছে, এটা অসাধারণ। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন নিখুঁতভাবে।’
লিভারপুলের সাবেক ডিফেন্ডার স্টিফেন ওয়ার্নক গোলের এই পরিমাণকে বর্ণনা করেছেন ‘অবিশ্বাস্য’ বলে। প্রশ্ন উঠছে, এই হার কতটা অস্বাভাবিক—এবং রেকর্ডটি আবার ভাঙবে কি না, তার অর্ধেক পথ ইতিমধ্যে এই সপ্তাহেই পেরিয়ে গেছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ এই গোলবন্যার কারণ খুঁজছেন প্রতিযোগিতার নতুন কাঠামোতে। ২০২৪-২৫ মৌসুম থেকে চালু হওয়া বর্তমান ফরম্যাটে ৩৬ দলের লিগ পর্বে প্রতিটি দল আটটি করে একক ম্যাচ খেলে।
নতুন নিয়মে শীর্ষ আট দল সরাসরি নকআউট পর্বে যায়, নবম থেকে ২৪তম দলগুলো দুই লেগের প্লে-অফ খেলে, আর শেষ আট দল বাদ পড়ে। অর্থাৎ আট ম্যাচ শেষেও ২৪টি দল টিকে থাকে—এই কম ঝুঁকির কাঠামোই দলগুলোকে আরও খোলামেলা ও আক্রমণাত্মক খেলতে উৎসাহিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দ্য টাইমসের ফুটবল লেখক টম আর্নট বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে বলেন, বিনোদন বেড়েছে, যদিও মান বেড়েছে কি না তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাঁর ভাষায়, খেলা দেখতে রোমাঞ্চকর, কিন্তু ম্যাচগুলোর তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়; ঝুঁকি কম থাকায় দলগুলো ড্রয়ের জন্য খেলার বদলে জয়ের জন্যই ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ দর্শকদের জন্য হয়ে উঠেছে গোলের উৎসব। এই ধারা চলতে থাকলে গড় গোলের রেকর্ডটি আরও ওপরে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।





