ইউক্রেনের পক্ষে লড়াইয়ের অভিযোগে দণ্ডিত মার্কিন নাগরিক হাবার্ডকে ছেড়ে দিল রাশিয়া
রাশিয়া মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে, যিনি ইউক্রেনের পক্ষে লড়াই করার অভিযোগে কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া ওই মার্কিন নাগরিককে ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলোচনার সময় পুতিন এ কথা বলেন।
পুতিন জানিয়েছেন, স্টিফেন হাবার্ডকে পুলকোভো বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মুক্তির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাকে বিমানবন্দরে নেওয়া হয় বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।
হাবার্ডের বাড়ি মূলত মিশিগানে। ২০২৪ সালে যখন তাকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় একটি পেনাল কলোনিতে, তখন তার বয়স ছিল ৭২ বছর।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিয়ুমে অবস্থিত একটি প্রতিরক্ষা ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। দুই বছর আগে রুশ বাহিনীর হাতে তিনি ধরা পড়েন বলে অভিযোগে বলা হয়েছিল।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ায় আটক বিদেশি নাগরিকদের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আলোচনায় রয়েছে। হাবার্ডের মুক্তির খবর সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে পুতিনের আলোচনার সময়ই মুক্তির ঘোষণাটি আসে। ফলে বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে।
তবে মুক্তির বিনিময়ে কোনো শর্ত ছিল কি না, কিংবা হাবার্ড কখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন, সে সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
হাবার্ডের বয়স ও দণ্ডের মেয়াদ বিবেচনায় তার মামলাটি শুরু থেকেই নজরে ছিল। প্রায় সাত বছরের সাজার বদলে এখন তিনি মুক্তির পথে—এটাই এই ঘটনার সবচেয়ে বড় মোড়।
এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় ঘটনাটি তখনো বিকশিত হচ্ছিল এবং আরও বিস্তারিত তথ্য আসার অপেক্ষা ছিল। নতুন তথ্য এলেই চিত্রটি আরও পূর্ণ হবে।
আপাতত নিশ্চিত তথ্য এটুকুই—পুতিন নিজে মুক্তির সম্মতির কথা বলেছেন, হাবার্ডকে পুলকোভো বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে, আর বিষয়টি জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। পরবর্তী ধাপে তার দেশে ফেরার প্রক্রিয়ার দিকেই নজর থাকবে।





