…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আমেরিকা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আমেরিকা

ক্যাম্প লেজুনের বিষাক্ত পানিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রায় ১০০ কোটি ডলার দিল ট্রাম্প প্রশাসন, বাকি দাবিও নিষ্পত্তির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার মেরিন ঘাঁটি ক্যাম্প লেজুনে বিষাক্ত পানীয় পানির সংস্পর্শে এসে ক্ষতিগ্রস্ত সাবেক সেনা, তাদের পরিবার ও বেসামরিক কর্মীদের জন্য প্রায় ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ নিষ্পত্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নর্থ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দিয়ে বিচার বিভাগকে অবশিষ্ট সব বৈধ দাবি যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিচার বিভাগের (ডিওজে) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে দাবিদাররা ৯১ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছেন। প্রশাসন ২০২২ সালের আইনের অধীনে দাবি করা প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জনকে অর্থ পরিশোধ করেছে। অথচ ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে, মাত্র ৪৫৯টি নিষ্পত্তিতে মোট ৫ কোটি ৯৬ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছিল।

কর্মসূচির আওতায় রোগের ধরন অনুযায়ী জনপ্রতি ১ লাখ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে নর্থ ক্যারোলাইনার সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমার প্রশাসন এই সাবেক সেনা ও তাদের পরিবারকে নগদ নিষ্পত্তি হিসেবে ১০০ কোটি ডলার দিয়েছে; এর পাশাপাশি ভিএ-এর জন্য ৩১০ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে এবং বিচার বিভাগকে অবশিষ্ট সব বৈধ দাবি যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই না এর কোনো অংশ মামলার আইনজীবীরা পাক; আমরা চাই পুরোটাই পরিবারগুলোর কাছে যাক।’

এই দাবিগুলো পরিশোধ করা হচ্ছে ২০২২ সালের আইনের অধীনে, যার মধ্যে রয়েছে ক্যাম্প লেজুন জাস্টিস অ্যাক্ট। আইন অনুযায়ী, ঘাঁটির পানীয় পানি থেকে যাঁরা ক্যানসার বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা প্রতিকারের অধিকারী।

ঘটনার পটভূমি বহু দশকের পুরোনো। ১৯৫৩ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে ঘাঁটির আটটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থার তিনটিতে দূষিত পানি ছিল। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকের জন্য এই পরিশোধ ন্যায়বিচারের দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান ঘটাতে পারে।

গত মার্চে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছিল, নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, এবং পরিশোধের গতি ত্বরান্বিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাউথ ক্যারোলাইনাভিত্তিক আইনজীবী এড বেল এই আইন পাসের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ৪৪ বছর ধরে আইন পেশায় আছেন, তার অর্ধেক সময়ই কেটেছে ক্যাম্প লেজুনের ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে। তিনিই এই মামলার প্রধান কৌঁসুলি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য অর্থ পেতে সহায়তা করছেন।

বেল বলেন, ‘অনেক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন, এবং সত্যি বলতে, আমার মনে হয় অনেকে স্বস্তি পেয়েছেন। অনেকের মনে হচ্ছে, নিষ্পত্তিতে সহায়তা করার মাধ্যমে সরকার অবশেষে বলেছে—আমরা দুঃখিত; তাই আমার মনে হয়, এটি খুবই ইতিবাচক।’

বেলের ধারণা, শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ দাবি পরিশোধ করা হবে; তবে তিনি স্বীকার করেন, যে অন্যায় হয়েছে তা পুরোপুরি প্রতিকার করতে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যায়বিচারে নিবেদিত দলটির প্রশংসা করেছেন তিনি। বেল বলেন, ‘বিচার বিভাগ যা করছে, তা নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী বলতে হবে।’ তিনি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন অ্যাসোসিয়েট অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি উডওয়ার্ডের সঙ্গে, যিনি নিষ্পত্তির কাজে ‘প্রাণপণ পরিশ্রম করছেন’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বেল আরও বলেন, ‘উডওয়ার্ড চমৎকার, তবে মনে রাখতে হবে, এই মামলা এবং যেকোনো নিষ্পত্তির সঙ্গে শত শত খুঁটিনাটি জড়িত, এবং এটি একটি শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া। তাঁদের সঙ্গে কাজ করে আমি খুশি, এবং আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত আমরা এটির সমাধান করতে পারব। বিচার বিভাগের উদ্দেশ্যও সেটাই বলে আমি মনে করি।’

বেল ২০০৭ সালে ক্যাম্প লেজুনের পানীয় পানি দূষণের প্রথম মামলাটি নিয়েছিলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রতিটি নিষ্পত্তি নির্ধারিত হয় ক্ষতিগ্রস্তের ক্ষতির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে; যেমন প্রথম পর্যায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত কেউ চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত কারো চেয়ে কম অর্থ পাবেন।

বেল বলেন, পানি বিষাক্ত বলে জানার পরও সরকার কিছুই করেনি, ফলে সৈন্যরা সেই বিপজ্জনক মিশ্রণ পান করে যেতে থাকেন। অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও সেই পানি পান করেছিলেন, যাতে তাঁদের শিশুদের মৃত্যু হয়। তাঁর মতে, এই দূষণ চারটি দুরারোগ্য রোগের কারণ হয়েছিল।

মামলা-মোকদ্দমার বিকল্প হিসেবে ২০২৩ সালে বিচার বিভাগ ও নৌবাহিনী বিভাগ ‘ইলেকটিভ অপশন’ নিষ্পত্তি কর্মসূচি চালু করে। যোগ্য রোগে আক্রান্তদের দ্রুত অর্থ পরিশোধের জন্যই এই কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে। এখন প্রশাসনের নির্দেশের পর অবশিষ্ট দাবিগুলোর নিষ্পত্তিও একই ধারায় গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আমেরিকা বিভাগের আরও খবর

আমেরিকা

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, ঠিক করবে হাতে গোনা কয়েকটি আসন: মানচিত্রে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এক বড় মোড় ঘনিয়ে আসছে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটির ভোটাররা ঠিক করবেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ…

আমেরিকা

যুদ্ধ আর অবরোধের মধ্যেও চলছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি: কাতারের সতর্কবার্তা, তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, হরমুজে ড্রোন ধ্বংসের দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে এই …

আমেরিকা

জলপাই কুড়াতে গিয়ে পশ্চিম তীরে আটক মার্কিন রাজনীতিক ব্র্যাড ল্যান্ডারসহ প্রায় ৮০ স্বেচ্ছাসেবী

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জলপাই কুড়াতে সাহায্য করতে গিয়ে মার্কিন রাজনীতিক ব্র্যাড ল্যান্ডারসহ প্রায় ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে আটক করেছে ইসরায়েলি…

আমেরিকা

ট্রাম্পের দূতের সঙ্গে বৈঠকের দিনই কারাবন্দি আমেরিকানকে মুক্তির নির্দেশ পুতিনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে নতু…