…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আমেরিকা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আমেরিকা

যুদ্ধ আর অবরোধের মধ্যেও চলছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি: কাতারের সতর্কবার্তা, তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, হরমুজে ড্রোন ধ্বংসের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে এই যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে কাতার। তবে মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ের কঠিন বাস্তবতায় স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সতর্ক করে বলেছেন, ‘সংঘাত যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।’ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দোহার গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে তিনি বলেন, ‘যেকোনো যুদ্ধবিরতি কোনো গন্তব্য নয়, বরং শান্তির দিকে পৌঁছানোর একটি দরজা মাত্র।’

এদিকে আলোচনায় অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফরে গেছেন। সফরে তিনি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনা এবং কূটনীতির অচলাবস্থার পেছনে কৌশলগত হিসাব-নিকাশ কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চারটি ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল যেন বড় ধাক্কা খায়, সে জন্য তেহরান ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে।

আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে উচ্চমূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ট্রাম্পের জনসমর্থন ইতোমধ্যে রেকর্ড পতন হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন নৌঅবরোধ এবং কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।

ইরানে আবার হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইরান সরকারের পতন ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত সোমবার ইসরায়েল সফরে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেখানে আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

মাঠের উত্তেজনা থেমে নেই। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার সকালে হরমুজ প্রণালীর ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া প্রণালীতে নৌমাইনে আঘাতের পর একটি সুপার ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি। তাদের দাবি, জাহাজটি নেভিগেশন ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ করে ইরানের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল; ট্যাংকারটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল ছিল। এর আগে আরও দুটি ট্যাংকারে আগুন লাগার দাবি করেছিল আইআরজিসি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি ‘ভুল’ বলে জানিয়েছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে ইরানের এই হামলা-অবরোধে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী জর্জ এলহেদারি জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পাইপলাইন ও লজিস্টিক রুটে বড় ধরনের বিনিয়োগ শুরু করেছে। ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালী কৌশলগতভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। কানসাসের এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতার প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের নেতৃত্ব পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং মার্কিন-ইরান আলোচনার পথ উন্মুক্ত করতে মস্কোও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ তেহরান সফর করে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিহাসে এই প্রথম ইরান ও রাশিয়া এত ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করছে।

এই প্রেক্ষাপটে কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর প্রস্তাবিত নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে অনুমোদিত একটি আইনের আওতায় এসব কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার জারি করা এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। প্রণীত ‘গ্রাহাম অ্যাক্ট’-এর অধীনে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যাতে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের অন্যতম বড় উৎস বাধাগ্রস্ত হয়। হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এ মুহূর্তে এ ধরনের অব্যাহতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে—এ মর্মে তিনি কংগ্রেসকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। তবে এই অব্যাহতি কীভাবে ওয়াশিংটনের স্বার্থরক্ষা করবে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন একে নেতৃত্বের ‘চরম ও অনুমেয় ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, কংগ্রেসের অভিপ্রায় অগ্রাহ্য করে ট্রাম্প মূলত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেই সংঘাত জিইয়ে রাখার সুযোগ করে দিলেন। আইনটির অন্যতম প্রণেতা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালও মন্তব্য করেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা নয়, বরং পুতিনকে তোষণ করার মনোভাব কাজ করেছে।

এদিকে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমেই শীতল হচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল রফতানি নিয়ে ট্রাম্পের এক সমঝোতায় ইউরোপীয় নেতারা যেমন বিস্মিত হয়েছেন, তেমনি জেলেনস্কিও নিজেকে প্রতারিত বলে দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে জ্বালানির দাম স্বাভাবিক রাখতে ইউক্রেনকে রুশ তেল স্থাপনায় হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। ইউক্রেন কিছুদিন হামলা স্থগিত রেখে পুনরায় তা শুরু করে; বিপরীতে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় জোরালো আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সহযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যদিও ট্রাম্প তা অস্বীকার করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো তাঁর কাছে অনেক বেশি কঠিন। এ ছাড়া রাশিয়ার অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেনের হাতে থাকা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানের বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিয়েভের পাশে থাকার বার্তা জোরালো করেছে। বেলজিয়ামে আয়োজিত এক সম্মেলনে জেলেনস্কি ইউরোপের ‘প্রকৃত নেতাদের’ ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে মস্কো যুদ্ধ বন্ধ না করলে চাপ আরও বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ২২তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে দোহার কূটনৈতিক তৎপরতা, তেহরানে পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যস্থতার চেষ্টা এবং হরমুজে সামরিক উত্তেজনা—তিনটি ধারাই এখন সমানতালে চলছে; আলোচনার পরের ধাপ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো অঞ্চল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আমেরিকা বিভাগের আরও খবর

আমেরিকা

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, ঠিক করবে হাতে গোনা কয়েকটি আসন: মানচিত্রে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এক বড় মোড় ঘনিয়ে আসছে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটির ভোটাররা ঠিক করবেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ…

আমেরিকা

ক্যাম্প লেজুনের বিষাক্ত পানিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রায় ১০০ কোটি ডলার দিল ট্রাম্প প্রশাসন, বাকি দাবিও নিষ্পত্তির নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার মেরিন ঘাঁটি ক্যাম্প লেজুনে বিষাক্ত পানীয় পানির সংস্পর্শে এসে ক্ষতিগ্রস্ত সাবেক সেনা, তাদের পরিবার ও বেসামরিক কর্মীদে…

আমেরিকা

জলপাই কুড়াতে গিয়ে পশ্চিম তীরে আটক মার্কিন রাজনীতিক ব্র্যাড ল্যান্ডারসহ প্রায় ৮০ স্বেচ্ছাসেবী

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জলপাই কুড়াতে সাহায্য করতে গিয়ে মার্কিন রাজনীতিক ব্র্যাড ল্যান্ডারসহ প্রায় ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে আটক করেছে ইসরায়েলি…

আমেরিকা

ট্রাম্পের দূতের সঙ্গে বৈঠকের দিনই কারাবন্দি আমেরিকানকে মুক্তির নির্দেশ পুতিনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে নতু…