ইমনের ফিফটিতে লড়াইয়ে বাংলাদেশ, সাইফ-মিরাজের বিদায়ে শারজাহে ৩৫ ওভারে ১৩৩ রানে ৬ উইকেট
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এক প্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নিয়েছেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। তবে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর সাইফ হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের বাজে শটে বিদায়ে চাপে পড়েছে দল। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩৫ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৩৩ রান।
ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে শুধু জিতলেই হবে না, আফগানদের হারাতে হবে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে—এমন কঠিন সমীকরণ সামনে রেখে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়।
কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শুরুতেই কঠিন বিপর্যায়ে পড়ে দল। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে চারটি উইকেট হারাতে দেখেন ওপেনার সাইফ হাসান। কঠিন সমীকরণের ম্যাচে দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল সাইফকে, আর সেই সাইফের সঙ্গেই জুটি গড়ে ইনিংস টেনে নিতে থাকেন ইমন।
স্কোরবোর্ডে ধীরগতিতে রান জমা হলেও দ্রুত উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া দলকে টেনে তোলেন এই দুই ব্যাটার। সাইফ-ইমনের ১৪৭ বলে ৯৩ রানের জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশের ইনিংস।
তবে ম্যাচের পরিস্থিতি বিচার না করে বাজে শট খেলে আউট হন সাইফ। তাঁর বিদায়ের পরের ওভারেই আরেকটি বাজে শট নির্বাচন করে দলকে বিপদে রেখে সাজঘরে ফেরেন মিরাজও। পরপর দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের এমন বিদায়ে আবার চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এক প্রান্তে এখনো অবিচল ইমন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি ৮৫ বলে ৫৬ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। অন্যদিকে শরীফুল ইসলাম অপরাজিত আছেন ৪ বলে ১ রান নিয়ে।
বাংলাদেশের সমীকরণটা শুধু জয়ের নয়, ব্যবধানেরও। ফাইনালের আশা বাঁচাতে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জিততে হলে ব্যাটিংয়ে যতটা সম্ভব বড় পুঁজি গড়া জরুরি ছিল। সেই পথে শুরুর বিপর্যয় বড় ধাক্কা হয়ে এলেও সাইফ-ইমনের জুটি দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়েছিল।
সাইফের দায়িত্বশীল ইনিংস আর ইমনের ধৈর্য মিলে যে ভিত তৈরি হয়েছিল, মাঝের ওভারগুলোতে পরপর উইকেট হারানোয় তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। এখন বাকি ওভারগুলোতে ইমনের সঙ্গে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের দায়িত্ব হবে স্কোরবোর্ডকে যতটা সম্ভব এগিয়ে নেওয়া।
আফগান বোলারদের সামনে শারজাহের উইকেটে রান তোলা সহজ ছিল না শুরু থেকেই। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে ইমনই সবচেয়ে স্বচ্ছন্দে খেলেছেন, পরিস্থিতির দাবি মেনে এক প্রান্ত ধরে রেখে ইনিংস গড়ায় মনোযোগ দিয়েছেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ কতটা পুঁজি নিয়ে বোলিংয়ে নামতে পারে, তার ওপর নির্ভর করবে ৪১ রানের ব্যবধানের সমীকরণ মেলানো আদৌ সম্ভব হবে কি না। বল হাতে আফগান ব্যাটারদের দ্রুত থামানোর চ্যালেঞ্জও অপেক্ষা করছে তাওহীদ হৃদয়ের দলের সামনে।
আপাতত লড়াইটা টিকে থাকার। ইনিংসের বাকি অংশে ইমনের ব্যাটে বড় সংগ্রহের দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ শিবির।


