শারজায় ব্যাটিং ধসে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ, ফাইনালে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে
সমীকরণ মিলিয়ে জয় তো দূর, শারজায় আফগানিস্তানের কাছে পাত্তাই পেল না বাংলাদেশ। হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর হতাশাজনক বোলিংয়ে ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়তে পারেনি টাইগাররা। ১৬০ রানে অলআউট হওয়ার পর ৭ উইকেটের বড় হারে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ; ফাইনালে উঠেছে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।
শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ। কিন্তু শুরু থেকেই বিপর্যয়—মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দিনের গতিপথ নির্ধারণ হয়ে যায় শুরুতেই। সাত ওভারের ভেতর প্রথম চার ব্যাটসম্যান ফিরে যাওয়ার পর ৪১ রানের জয়ের হিসাব তো পরের কথা, তখন সম্মানজনক স্কোর করাটাই হয়ে দাঁড়ায় প্রধান চিন্তা। শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৬০ রান কোনো বিচারেই ভালো সংগ্রহ নয়। ব্যাটসম্যানদের আউট হওয়ার ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে—অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে, বল টেনে এনে বোল্ড হয়ে যেভাবে উইকেট বিলিয়ে এসেছেন, তার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন। পুরো ইনিংসে মাত্র তিন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন।
বাংলাদেশের রান যে এক শর নিচে আটকে যায়নি, তার কৃতিত্ব ওপেনার সাইফ হাসান ও লিটন দাসের বিকল্প হিসেবে দলে যোগ দেওয়া পারভেজ হোসেন ইমনের। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯৩ রানের জুটিই ইনিংসের একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ। পারভেজ ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৯৬ বলে ৭০ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন; সাইফ পঞ্চাশের কম স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে জুটি গড়লেও মন্থর ব্যাটিংয়ে চাপ কাটেনি।
৩২তম ওভারে সাইফের আউটে ভেঙে যায় এই জুটি। মোহাম্মদ নবীর বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি। পরের ওভারেই পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শেষ স্বীকৃত ব্যাটিং সঙ্গী মেহেদী হাসান মিরাজ—একবার জীবন পাওয়ার দুই বল পর আবার পুল করেই। ৪০তম ওভারে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে রশিদ খানের বলে এলবিডব্লু হন পারভেজ, এরপর আর দুই ওভারের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় ইনিংস। নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১৫ রান; সৌম্য সরকার, তাওহীদ হৃদয়, আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান ফেরেন খালি হাতে।
আফগান বোলারদের মধ্যে রশিদ খান একাই নেন ৪ উইকেট। আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও ইয়ামিন আহমেদজাই নেন ২টি করে, বিলাল সামি ও মোহাম্মদ নবী নেন একটি করে উইকেট।
জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ ছিল আরও কঠিন: ফাইনালে যেতে আফগানদের আটকে রাখতে হতো ১১৯ রানের মধ্যে। কিন্তু রান তাড়ায় আফগানিস্তান ২৭তম ওভারেই ১১৯ রান করে ফেলায় সেখানেই নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের বিদায়। শেষ পর্যন্ত ৮৭ বল হাতে রেখে, ৩৬তম ওভারেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান।
রান তাড়ায় আফগানদের সর্বোচ্চ রান করেন রহমত শাহ—৯০ বলে ৫ চারে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। হাশমতউল্লাহ শাহিদী ৫৪ বলে ৩৬ ও ইব্রাহিম জাদরান ৪৮ বলে ৩৪ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ পাওয়ার প্লের ভেতর রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও সেদিকউল্লাহ আতালকে ফিরিয়ে কিছুটা আশা দেখালেও রহমতের ফিফটিতে তা মিলিয়ে যায়; তাসকিন নেন ২ উইকেট, মোস্তাফিজ ১টি।
এই হারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর আফগানদের কাছেও হেরে দুই ম্যাচের কোনোটিতেই দুই শ রানের কাছাকাছি যেতে পারল না বাংলাদেশ। অথচ কাছাকাছি শক্তির দুই দলের এই ত্রিদেশীয় সিরিজে বড় প্রত্যাশা নিয়েই শুরু করেছিল টাইগাররা—চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূর, ফাইনালেও উঠতে পারল না তারা। আগামী পরশু ফাইনালে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও টুর্নামেন্টের শুরুতে বাংলাদেশকে হারানো জিম্বাবুয়ে।
ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্নগুলো এই সিরিজে আরও বড় হয়ে উঠেছে। উত্তর খোঁজার জন্য খুব বেশি সময়ও নেই—আগামী বছর অক্টোবরেই দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে বিশ্বকাপে খেলতে নামতে হবে বাংলাদেশকে। হতাশা নিয়েই আরব আমিরাত সফর শেষ করে ফিরতে হচ্ছে টাইগারদের।






