ট্রাম্পের ‘পাগল’ বলা বিচারক পিছু হটলেন: গলফ কোর্স মামলায় বিচার বিভাগের সঙ্গে সাত ঘণ্টার টানাপোড়েনের পর দাবি প্রত্যাহার
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ফেডারেল মালিকানাধীন একটি গলফ কোর্স সংস্কার নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তীব্র বিরোধে জড়ানো বিচারক আনা রেয়েস সোমবার প্রায় সাত ঘণ্টার শুনানি শেষে নিজের আগের দাবি থেকে পিছু হটেছেন। মামলাটি ইস্ট পোটোম্যাক গলফ লিংকসকে ‘বিশ্বমানের, ইউএস ওপেন-মানের’ কোর্সে রূপ দেওয়ার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা ঘিরে।
রেয়েস শুরুতে বিচার বিভাগের আইনজীবীদের ওপর ‘রুল ১১’ প্রয়োগের কথা বলেন — যে বিধান অনুযায়ী আইনজীবীদের আদালতে জমা দেওয়া নথির তথ্যগত ভিত্তির দায় নিতে হয় এবং লঙ্ঘনে শাস্তির বিধান আছে। তিনি দাবি করেছিলেন, রোববারের ফাইলিংয়ে সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি উডওয়ার্ড জুনিয়রের পাশাপাশি মামলায় যুক্ত আইনজীবীরাও যেন নিজেদের নাম যুক্ত করেন।
শুনানির শেষ দিকে রেয়েস বলেন, ‘সর্বশেষ খবর — আমি গতকালের ব্রিফটি কে স্বাক্ষর করেছেন তা চিহ্নিত করে আবার জমা দেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাহার করছি। আমাদের সবারই এর চেয়ে ভালো কাজে সময় দেওয়ার আছে।’
ঘটনার সূত্রপাত এই মাসের শুরুর দিকে, যখন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস এক সপ্তাহান্তে গলফ কোর্সের প্রায় ৪৩০টি গাছ কেটে ফেলে। স্বরাষ্ট্র বিভাগের দাবি, গাছ কাটা ছিল কোর্সের ঐতিহাসিক নকশা পুনরুদ্ধারের বহু বছরের পুরনো পরিকল্পনার অংশ এবং ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সংস্কারের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
যদিও এই পদক্ষেপ আদালতের কোনো আদেশ লঙ্ঘন করেনি, তবু রেয়েস আরও গাছ কাটার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অক্টোবরের ১২ তারিখের শুনানিতে তাঁকে প্রশাসনের আইনজীবীদের ওপর ‘চিৎকার’ করতে দেখা গেছে বলেও বর্ণনা এসেছে।
এরপর উডওয়ার্ড রেয়েসকে মামলা থেকে সরানোর আবেদন করেন; তাঁর অভিযোগ, বিচারক পক্ষপাতদুষ্ট এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ‘খোলামেলা শত্রুভাবাপন্ন’। উডওয়ার্ড ও ট্রাম্প দুজনেই শুনানির অডিও রেকর্ডিং প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
শুনানির কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে রেয়েসকে ‘পাগলাটে উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে লেখেন, আদালতের টেপ প্রকাশ পেলে বিচারকের আচরণ পরিষ্কার হবে; টেপ ব্যবহারে বিচারক বাধা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, কোর্সটিকে ‘মহান, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ গলফ কোর্সে রূপ দেওয়ার ‘অধিকার’ তাঁর প্রশাসনের আছে এবং কাজ ‘তাৎক্ষণিক’ শুরু হওয়ার কথা।
রোববার ট্রাম্প আরও দুটি পোস্টে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বারগাম ও স্থপতি টম ফাজিও ইস্ট পোটোম্যাক গলফ লিংকসকে ‘বিশ্বমানের চ্যাম্পিয়নশিপ গলফ কোর্সে’ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন এবং ১৫ নভেম্বর কাজ শুরু হবে। এই বক্তব্য আগের একটি ফাইলিংয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক — যেখানে বলা হয়েছিল ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ‘কোনো সংস্থাগত পদক্ষেপ’ নেই — এমন যুক্তিতে রেয়েস বিচার বিভাগকে রাত ৮টার মধ্যে ফাইলিং জমার সময়সীমা বেঁধে দেন।
সেই ফাইলিংয়ে শুধু উডওয়ার্ডের স্বাক্ষর থাকায় সোমবারের শুনানির শুরুতেই তা বিতর্কের কেন্দ্রে আসে। রেয়েস আইনজীবীদের বলেন, যাঁরা ব্রিফটিতে স্বাক্ষর করতে রাজি, তাঁরা ‘হাত তুলুন’ — উডওয়ার্ড জবাব দেন, এটি ‘যথাযথ অনুরোধ নয়’। এরপর রেয়েস রুল ১১ প্রয়োগ করে আইনজীবীদের কাঠগড়ায় এসে স্বাক্ষর করার নির্দেশ দেন।
উডওয়ার্ড ও আইনজীবীরা তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। রেয়েস প্রথমে বেলা ৩টার সময়সীমা দেন, পরে তা মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বাড়ান এবং স্বাক্ষরের বদলে ব্রিফে নাম ছাপানোর সুযোগও দেন। শেষ পর্যন্ত তিনি পুরো দাবিটিই প্রত্যাহার করে নেন।
সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর অভিষেক কাম্বলি এক্সে লিখেছেন, উচ্চপদস্থ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা অনেক সময় নেতৃত্বের জায়গা থেকেই বিতর্কিত ব্রিফে নিজে স্বাক্ষর করেন, যাতে প্রশ্ন উঠলে তা নিচের সারির আইনজীবীদের বদলে তাঁর দিকেই যায়। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিচারকের খোঁজখবর করা উচিত নয়। কনজারভেটিভ পার্টনারশিপ ইনস্টিটিউটের রেচেল বুলভার্দের অভিযোগ, বিভাগের তরুণ আইনজীবীদের বার লাইসেন্স নিয়ে চাপের কারণে তাঁরা ক্রমেই ব্রিফে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকছেন।
২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ পাওয়া রেয়েস এর আগেও ট্রাম্পের সামরিক বাহিনীতে ট্রান্সজেন্ডারদের সেবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা মামলার শুনানি নিয়ে বিচার বিভাগের বিচারিক অসদাচরণের অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন। ডি.সি. সার্কিটের প্রধান বিচারক সেই অভিযোগ খারিজ করে বলেছিলেন, বিচারকের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সঠিক পথ হলো তাঁকে মামলা থেকে সরানোর আবেদন। গলফ কোর্স মামলাটি ফেব্রুয়ারিতে দায়ের হয়েছিল; সোমবারের ঘটনাবলির পর এই আইনি লড়াই কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।






