রাজপরিবারের সঙ্গে মিলমিশই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বললেন প্রিন্স হ্যারি
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন মিটিয়ে ফেলার নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি। জিকিউ ম্যাগাজিনের সঙ্গে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ডিউক অব সাসেক্স বলেছেন, বিশ্বে এত কিছু ঘটে চলেছে যে পরিবারের ভেতরের বিবাদ ধরে রাখার আর কোনো মানে হয় না — মিলমিশই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সেপ্টেম্বরে ধারণ করা ও মঙ্গলবার প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে সঞ্চালক জ্যাক ব্যারন হ্যারিকে জিজ্ঞেস করেন, বাবা রাজা তৃতীয় চার্লস ও বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক নিয়ে তিনি শোক করেন কি না। ৪২ বছর বয়সী হ্যারি উত্তরে বলেন, অবশ্যই করেন।
হ্যারি বলেন, পরিবারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অনেক মানুষের কাছে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত একটি বিষয় — ভাইবোনের মতবিরোধ, সন্তান ও বাবা-মায়ের মধ্যে ভাঙা সম্পর্কের মতো ঘটনা তাঁর কাছে বারবার মানুষের মুখে উঠে আসে, তাই তিনি জানেন বিষয়টি কতটা সবার সঙ্গে মেলে।
তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ তাঁদের দিকে তাকিয়ে ভাবতে পারেন — তোমরা যদি মিটমাট করতে পারো, হয়তো তা আমাকেও নিজের সমস্যা মেটাতে সাহায্য করবে। আবার কেউ কেউ চান না যে এটি মিটুক। কিন্তু নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে হ্যারি বলেন, তিনি চান এটি মিটে যাক।
সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্য ছিল, পৃথিবীতে যা যা ঘটছে, তার মধ্যে পরিবারের সঙ্গে মিলে যাওয়াই মূল কথা। এই একটি বাক্যকে ঘিরেই সাক্ষাৎকারের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরিবারের এই 'ক্ষত' সারানো সম্ভব কি না — এমন প্রশ্নে হ্যারি বলেন, দাগ চিরদিন থেকে যায়। তবে অতীতের ঘটনাগুলোকে কীভাবে দেখা হচ্ছে ও মানসিকতা কেমন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ; অতীতকে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ তিনি সবাইকে দেন।
তিনি বলেন, অতীতের কিছু বিষয় যদি প্রতিদিন প্রভাব ফেলতে থাকে, তা ছেড়ে দেওয়া কঠিন। তবে তাঁর নিজের ক্ষেত্রে পৃথিবীতে ও মানুষের জীবনে যথেষ্ট নাটকীয়তা রয়েছে, পরিবারের সঙ্গে সমস্যা জিইয়ে রাখার আর প্রয়োজন নেই।
সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর হ্যারির 'কেউ কেউ চান না এটি মিটুক' মন্তব্য নিয়ে জল্পনা শুরু হয় — তিনি কি উইলিয়ামকে ইঙ্গিত করেছেন? পরে তাঁর মুখপাত্র পিপল ম্যাগাজিনকে স্পষ্ট করেন, মন্তব্যটি মোটেও ভাই বা পরিবারের কোনো সদস্যকে কটাক্ষ করে করা হয়নি; এটি ছিল সাধারণ প্রসঙ্গে বলা কথা।
রাজপরিবারের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ২০১৮ সালে সাবেক অভিনেত্রী মেগান মার্কলকে বিয়ের পর দুই ভাইয়ের মধ্যে ফাটলের গুঞ্জন শুরু হয় এবং হ্যারি পরে প্রকাশ্যে সমস্যার কথা স্বীকার করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজা চার্লসের সঙ্গে হ্যারির সাক্ষাৎ ও মেগানসহ পুনর্মিলনের খবর নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও নানা মূল্যায়ন চলছে — কেউ এটিকে সম্পর্ক জোড়া লাগার সুযোগ বলছেন, কেউ উইলিয়ামের অনুপস্থিতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
এবারের সাক্ষাৎকারে হ্যারির সুর ছিল আগের অনেক বক্তব্যের চেয়ে নরম ও মিলমিশমুখী। দাগ থেকে যাওয়ার কথা স্বীকার করেও তিনি বারবার জোর দিয়েছেন মনোভাব বদল ও অতীত ছেড়ে দেওয়ার ওপর।
এখন দেখার বিষয়, হ্যারির এই প্রকাশ্য আহ্বানে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া আসে কি না। আপাতত তাঁর বার্তা একটাই — যত দাগই থাকুক, পরিবারের সঙ্গে মিলে যাওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



