১৫ বছরে প্রথম অস্ট্রেলিয়ার সব রাজধানীতে একসঙ্গে কমল বাড়ির দাম, সিডনিতে সর্বনিম্ন দুই বছরে
অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ির দাম একসঙ্গে সব রাজধানী শহরে কমেছে — এমন ঘটনা গত ১৫ বছরে এই প্রথম ঘটল, আর নথিভুক্ত ইতিহাসে এটি মাত্র দ্বিতীয়বার। ডোমেইনের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক ২০২৬-এর বাড়ির দাম প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে আবাসন বাজারের মন্দা এখন আর কোনো একটি শহরে সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় সব বড় শহরে।
সবচেয়ে বড় শহর সিডনিতে বাড়ির দাম সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এতে শহরটির মধ্যম বাড়ির দাম নেমে এসেছে ১৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ক্রেতাদের দুর্বল আস্থা আর বিক্রেতাদের বাস্তবসম্মত দামে রাজি হওয়ার চাপ — দুটোই এই পতনের পেছনে কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেলবোর্নে দাম কমেছে টানা তৃতীয় প্রান্তিকে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সেখানে পতন ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত চার বছরের মধ্যে শহরটির সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন। তবু শহরটি কোনোমতে ‘মিলিয়ন ডলার ক্লাব’-এ টিকে আছে — সেখানে মধ্যম বাড়ির দাম এখন ১০ লাখ ১৪ হাজার ডলার।
পার্থে পতন আরও তীব্র। সেখানে বাড়ির দাম কমেছে রেকর্ড ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেডেও এই প্রান্তিকে রেকর্ড করা হয়েছে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন। অর্থাৎ ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি রাজধানী শহরেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
ডোমেইনের আবাসনবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ নিকোলা পাওয়েল বলেছেন, মন্দা এখন ভৌগোলিকভাবে যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি সম্পত্তির ধরন অনুযায়ীও ছড়িয়েছে — বাড়ি ও ইউনিট, দুই ধরনের সম্পত্তির দামই কমছে। তাঁর ভাষায়, বাড়ি বিক্রি হতে এখন আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে, দর-কষাকষির সুযোগ বেড়েছে, আর বিক্রেতাদের দামের প্রত্যাশা নিয়ে আরও বাস্তববাদী হতে হচ্ছে।
এই পতনের পেছনের কারণ হিসেবে পাওয়েল উল্লেখ করেছেন উচ্চ সুদের হার, জীবনযাত্রার ব্যয়ের টানা চাপ এবং আবাসন বিনিয়োগের করনীতিতে আনা পরিবর্তন। এসব মিলিয়ে বিশেষ করে ক্রেতাদের মধ্যে দুর্বল মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বছর শেষে মেলবোর্নের মধ্যম বাড়ির দাম ১০ লাখ ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা কমে যাওয়াও বিক্রি কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ হিসেবে তথ্যে উঠে এসেছে।
তবে মুদ্রার অন্য পিঠও আছে। দুর্বল বাজারের কারণে যাঁদের আর্থিক অবস্থা মজবুত এবং কেনার সক্ষমতা আছে, তাঁদের জন্য এই বসন্ত মৌসুম বছরের পর বছর ধরে পাওয়া সেরা সুযোগগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। পাওয়েলের ভাষায়, এখন এটি ক্রেতাদের বাজার, আর অনেক রাজধানী শহরেই সরবরাহ গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেছেন, আর্থিকভাবে সুরক্ষিত ক্রেতাদের জন্য এই পরিস্থিতি এমন সুযোগ তৈরি করছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাওয়া কঠিন ছিল। অর্থাৎ বিক্রেতাদের জন্য কঠিন সময় হলেও প্রস্তুত ক্রেতাদের জন্য বাজারে ঢোকার জানালা খুলেছে।
তবে এই স্বস্তি কত দিন থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। পাওয়েল মনে করেন, দাম আরও অনেক মাস ধরে কমতে পারে। লেনদেনের আস্থা বদলাতে হলে কোনো না কোনো পরিবর্তন দরকার হবে।
তাঁর মতে, সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত আসা কিংবা অন্তত সেই আলোচনা সামনে না আসা পর্যন্ত ক্রেতাদের আস্থায় বড় পরিবর্তন তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। আর সেই সম্ভাবনা তিনি দেখছেন আগামী বছরের শেষভাগে।
ফলে আগামী মাসগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজার কোন দিকে যায়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সুদের হার ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের ওপর। আপাতত তথ্য বলছে, সব রাজধানীতে একসঙ্গে দাম কমার এই বিরল চিত্র সহসা বদলানোর লক্ষণ নেই।






