কোমোতে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত ইউনাইটেড, কারিকের কৌশল নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ অধিনায়ক ফের্নান্দেসের
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বুধবার রাতে ইতালির কোমোর মাঠে ৪-১ গোলের বড় হারে আরও গভীর সংকটে পড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া দলটি এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, আর শেষ দিকে জশুয়া জিরকজির সান্ত্বনাসূচক গোল ব্যবধান কিছুটা কমালেও লজ্জা এড়ানো যায়নি।
এই হারের পর টানা সাত ম্যাচ জয়হীন থাকল ইউনাইটেড। চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম তিন ম্যাচ থেকে তাদের সংগ্রহ মাত্র তিন পয়েন্ট, আর প্রতিযোগিতায় তাদের পরের ম্যাচ নিজেদের মাঠে এএস রোমার বিপক্ষে। ফলে ম্যানেজার মাইকেল কারিকের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেস দলের মানসিকতা ও কৌশল নিয়ে প্রকাশ্যেই হতাশা ঝেড়েছেন। টিএনটি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, দল শুরু থেকেই ভুল পথে হেঁটেছে, প্রতিপক্ষ খুব তাড়াতাড়ি গোল পেয়ে গেছে, বলে পর্যাপ্ত চাপ তৈরি হয়নি এবং বল ছাড়া নড়াচড়াও ছিল দুর্বল — অনেক কিছুই সেদিন দলের পক্ষে যায়নি।
ফের্নান্দেসের ভাষায়, তাড়াতাড়ি গোল হজম করায় দল 'পরাজয়ের মনোভাব' নিয়ে খেলতে শুরু করে। কোচিং স্টাফের সিদ্ধান্ত ছিল ম্যান-টু-ম্যান প্রেস না করে কিছুটা জায়গা ছেড়ে দিয়ে অপেক্ষা করা, কিন্তু এ ধরনের দলগুলোকে জায়গা দিলে তারা আত্মবিশ্বাস পেয়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর এই কথাগুলো কারিকের কৌশলের সমালোচনা কি না — এমন প্রশ্নে ফের্নান্দেস বলেন, সেটা ম্যানেজার ও স্টাফদের দেখার বিষয়, তাঁর নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, কখনো কখনো চাপের মুখে আরও সাহসী হতে হয়, উঁচুতে প্রেস করে প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলার ঝুঁকি নিতে হয়।
অন্যদিকে কারিক নিজে দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন। ৪৫ বছর বয়সী এই ম্যানেজার টিএনটি স্পোর্টসকে বলেন, ফল শুধু হতাশাজনক নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু; সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং সামগ্রিক দল ও পারফরম্যান্সের দায় তাঁর ওপরই বর্তায়।
কারিক আরও বলেন, ক্লাবের একজন সমর্থক হিসেবে এমন পারফরম্যান্স দেখা তাঁর কাছে অগ্রহণযোগ্য, এবং এই পারফরম্যান্সের জন্য তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁর মতে, ফুটবল ম্যাচে যে উদ্দেশ্য, তীব্রতা ও প্রেরণা দরকার, দল সেদিন তা মাঠে আনতেই পারেনি।
ম্যাচের চিত্রও ছিল একই রকম একপেশে। দ্বিতীয় মিনিটে কোমোর প্রথম গোলের পর ইউনাইটেডের রক্ষণ বারবার ভেঙে পড়ে, আর আক্রমণে গোছানো কোনো ছন্দই তৈরি হয়নি। যোগ করা সময়ে জিরকজির গোলটি তাই কেবল স্কোরলাইনটাকেই কিছুটা কম লজ্জাজনক করেছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে ইউনাইটেডের পরের রাউন্ডে ওঠার পথ এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। রোমার বিপক্ষে ঘরের ম্যাচটি তাই কারিকের দলের জন্য প্রায় বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
সব মিলিয়ে কোমোর এই রাত ইউনাইটেডের চলতি মৌসুমের সংকটকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে — মাঠের ফল, অধিনায়কের প্রকাশ্য ক্ষোভ আর ম্যানেজারের ক্ষমা চাওয়া, তিন মিলিয়ে ক্লাবটির ভেতরের চাপ এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। পরের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে কারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে।





