বন্দুক কিনতে গিয়ে আইস এজেন্টদের গুলি করার হুমকি, ফ্লোরিডার নারী আইনজীবী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এক নারী আইনজীবীকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের (আইসিই) এজেন্টদের গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বন্দুক কিনতে একটি দোকানে গিয়ে তিনি এসব হুমকি দেন বলে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার নারীর নাম লিসা হোয়াইট। তিনি ফ্লোরিডার আইনজীবী হলেও বসবাস করেন মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে। লং বিচ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, বন্দুক ও পেপার স্প্রে কেনার চেষ্টার সময় তিনি ‘ফেডারেল এজেন্টদের হত্যা’ করার হুমকি দিয়েছিলেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিসা হোয়াইটকে ফ্লোরিডার আইনজীবী হিসেবে শনাক্ত করে তাঁর গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়। পরে এইচএসআই গালফপোর্টের বিশেষ এজেন্টরা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হোয়াইটকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করেন।
সান হেরাল্ড পত্রিকার হাতে আসা ফৌজদারি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তদন্ত শুরু হয় গত ২৩ সেপ্টেম্বর। ওই দিন অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস ব্যুরোর (এটিএফ) এক এজেন্ট হাই ক্যালিবার গানস নামের দোকানের ঘটনাটি এইচএসআইকে জানান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হোয়াইট দোকানে ঢুকে কর্মচারীদের বলেন, ‘আমার একটা বন্দুক দরকার।’ নিজেকে একজন আন্দোলনকর্মী ও বিক্ষোভকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিজের সুরক্ষার জন্য তিনি আগ্নেয়াস্ত্র চান, কারণ তাঁর বিশ্বাস, ‘আইস এজেন্টরা পাগল ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।’
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, দোকানের এক কর্মচারীকে হোয়াইট এ-ও বলেছিলেন যে তিনি আইস এজেন্টদের হত্যা করার জন্যই বন্দুক কিনতে চান। অস্ত্রগুলো নিয়ে আলোচনার সময় তিনি নিজের শরীরের দিকে ইশারা করে জানতে চান, এসব বন্দুকের গুলি কোনো এজেন্টের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট (ব্যালিস্টিক ভেস্ট) ভেদ করতে পারবে কি না।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, গুলি জ্যাকেট ভেদ করতে না পারলে তাঁকে ‘মাথা, কাঁধ, বাহু বা পায়ে আঘাত করতে হবে’ বলে মন্তব্য করেন হোয়াইট।
দোকানের এক কর্মচারী তাঁকে সতর্ক করে বলেন, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের দিকে বন্দুক তাক করলে তাঁর নিজেরই নিহত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। জবাবে হোয়াইট বলেন, ‘মরতে হলে মরব।’
এরপর ওই কর্মচারী বন্দুকের বদলে পেপার স্প্রে কেনার পরামর্শ দেন এবং প্রশিক্ষণের জন্য তাঁকে একটি শুটিং রেঞ্জে যাওয়ার কথা বলেন। হোয়াইট দুটি পিস্তল দেখলেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই দোকান ছাড়েন—দোকান কর্তৃপক্ষ বিক্রি সম্পন্ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাঁকে দুই-তিন দিন পর ফিরে আসতে বলে।
দোকানের কর্মচারীরা পরে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করলে তদন্ত শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত হোয়াইটকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল এজেন্টদের ওপর হামলার হুমকির ঘটনাকে কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে; মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া এখন আদালতে এগোবে।





