সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন: মনোনয়নে এমপিদের স্বাক্ষর যাচাই করবে নির্বাচন কমিশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে থাকা সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষর যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কাছে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরের তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইসির চিঠিতে সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে অনুরোধ করা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরের তালিকাসহ একজন কর্মকর্তাকে উপস্থিত রাখতে। বাছাইয়ের মুহূর্তে প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর ও অনুস্বাক্ষর মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন হবে বলেই এই ব্যবস্থা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ইসির যুগ্মসচিব ও এই উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কমিশনের ঘোষিত তফসিল ধরেই পুরো প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে।
তফসিল অনুযায়ী, এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৬ অক্টোবর। পরদিন, ২৭ অক্টোবর, জমা পড়া মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে — স্বাক্ষর যাচাইয়ের কাজটিও হবে সেই বাছাইয়ের অংশ হিসেবে।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৮ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৯ অক্টোবর। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ নভেম্বর।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর্ব শেষ হলে ২ নভেম্বর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। তারপর আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
আসনটি শূন্য হয়েছে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির আসন ছেড়ে দেওয়ার পর। তিনি পদত্যাগ করার পর সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হচ্ছে কমিশনকে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আলোচনায় এসেছিল রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার পর। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই আসনগুলোর ভোটার মূলত সংসদ সদস্যরাই। ফলে মনোনয়নপত্রে তাঁদের স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করা বাছাই প্রক্রিয়ার একটি সংবেদনশীল ধাপ।
ইসির চিঠি ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তার উপস্থিতির অনুরোধ থেকে বোঝা যাচ্ছে, কমিশন সেই যাচাই আনুষ্ঠানিক নথির ভিত্তিতেই সম্পন্ন করতে চায়, যাতে বাছাইয়ের দিন কোনো স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে তা মেলানো যায়।
এখন নজর ২৬ অক্টোবরের দিকে — কারা এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং ২৭ অক্টোবরের বাছাইয়ে স্বাক্ষর যাচাইয়ের পর কাদের প্রার্থিতা টিকে থাকে, তার ওপরই নির্ভর করবে ১২ নভেম্বরের ভোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা।




