শ্রীনগরে ভোরের আগুনে পুড়ল সালমা বেগমের বসতঘর, দুই ইউনিটের চেষ্টায় রক্ষা পেল আশপাশের ঘর
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ভোরে একটি টিনের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ঘর ও ঘরের ভেতরের আসবাব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে আশপাশের বসতঘরগুলো।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৬টা ২০ মিনিটে উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভোরের এই সময়ে আগুন লাগায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি ওই এলাকার মৃত খালেক ব্যাপারীর স্ত্রী সালমা বেগমের। টিন ও কাঠ দিয়ে নির্মিত ঘরটিই ছিল তার বসবাসের জায়গা।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে রুদ্রপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন সালমা বেগমের বসতঘরে হঠাৎ আগুন লাগে। ঘরে কাঠের অংশ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা প্রথমে নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় তারা ব্যর্থ হন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।
এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভোরে আগুন লাগলেও প্রাণহানি এড়ানো গেছে, এটাই স্থানীয়দের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে এটি এখনও প্রাথমিক ধারণা; নিশ্চিত কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন।
তদন্তের পরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। ঘর ও আসবাব পুড়ে যাওয়ায় সালমা বেগমের ক্ষতির আকার ছোট নয় বলেই স্থানীয়দের ধারণা।
ভোরের এই আগুন আবারও টিন ও কাঠের ঘরে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার প্রশ্নটি সামনে এনেছে। শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা কমাতে নিয়মিত তার ও সংযোগ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা এমন ঘটনায় বারবার উঠে আসে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব পাওয়ার বিষয়টি এখন স্থানীয়দের আলোচনায় রয়েছে।




