সাজেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গুলি বিনিময়, আবার আটকা পর্যটকরা
রাঙামাটির সাজেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় দফার অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনায় সাজেকে আবার আটকা পড়েছেন পর্যটকরা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাঘাইছড়ি-সাজেক সড়কে অবরোধ চলছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গুলি বিনিময় হয়। এই ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিন ছিল সাজেকে তৃতীয় দফার অবরোধের দিন। তিন দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির নেতাকর্মীরা। তাদের বিক্ষোভের কারণে সাজেক ভ্যালি থেকে পর্যটকদের নিয়ে রওনা হওয়া গাড়িবহর আগেই আটকা পড়েছিল।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গাড়িবহরটি উজোবাজারে আটকে দেন আন্দোলনকারীরা। সড়কের কয়েকটি স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলছিল; সাজেকের বাঘাইহাটের শুকনাছড়াসহ কয়েকটি স্থানে টায়ারে আগুন দেওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছিল।
নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সাজেকে পর্যটক প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তাদের নির্দেশনায় সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটককে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবরোধের কারণে সেই ফেরার পথই আটকে যায়, তার ওপর এবার যুক্ত হলো গুলি বিনিময়ের ঘটনা।
সাজেক জিপ সমিতির লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত জানিয়েছিলেন, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ছোট-বড় ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে দেড় শতাধিক যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছিল। বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় সাজেক থেকে গাড়ি ছাড়ার সময় নির্ধারিত ছিল।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানিয়েছিলেন, সকাল নয়টায় পর্যটকবাহী স্কর্ট সাজেক ছেড়ে যায়। পরে স্কর্টটি উজোবাজারে অবরোধকারীদের বাধায় পড়ে; পর্যটকরা সেখানেই অবস্থান করছিলেন।
আন্দোলনকারী সংগঠন দুটি জানিয়েছে, তিন দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা আবার অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন। ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপের কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালানো হচ্ছে। ভয়ভীতি ও মৃত্যুর হুমকির কারণে অনেকে ঘরছাড়া হয়েছেন বলেও দাবি তাদের।
আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। অর্থাৎ দাবি পূরণের কোনো অগ্রগতি না হলে অবরোধ কত দিন চলবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর তিন দফা দাবিতে প্রথমবারের মতো অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর আবার অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয় এবং বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় তৃতীয় দফার অবরোধ।
তৃতীয় দফার এই অবরোধে গুলি বিনিময়ের ঘটনা পরিস্থিতিকে আগের চেয়ে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। অবরোধ, পর্যটকদের আটকে পড়া, প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন—এসবের সঙ্গে এবার নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিও যুক্ত হলো।
আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে তাদের ফেরার কথা থাকলেও অবরোধ ও সংঘর্ষের কারণে সেই সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয় কি না এবং গুলি বিনিময়ের ঘটনার পূর্ণ বিবরণ কী—সেদিকেই এখন সবার নজর।






