সাজেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, উজোবাজারে আটকা পর্যটকবাহী গাড়িবহর
তিন দাবিতে তৃতীয়বারের মতো বৃহস্পতিবার রাঙামাটির বাঘাইছড়ি-সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির নেতাকর্মীরা। তাদের বিক্ষোভের কারণে সাজেক ভ্যালি থেকে পর্যটকদের নিয়ে রওনা হওয়া গাড়িবহর আটকা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গাড়িবহরটি উজোবাজারে আটকে দেন আন্দোলনকারীরা। স্থানীয় সূত্র জানায়, আন্দোলনকারীরা সড়কের কয়েকটি স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। সাজেকের বাঘাইহাটের শুকনাছড়াসহ সড়কের কয়েকটি স্থানে টায়ারে আগুন দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সাজেকে পর্যটক প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তাদের নির্দেশনায় সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটককে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অবরোধের কারণে সেই ফেরার পথই আটকে গেছে।
সাজেক জিপ সমিতির লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত জানান, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ছোট-বড় ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে দেড় শতাধিক যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছিল। বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় সাজেক থেকে গাড়ি ছাড়ার সময় নির্ধারিত ছিল।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, সকাল নয়টায় পর্যটকবাহী স্কর্ট সাজেক ছেড়ে যায়। পরে স্কর্টটি উজোবাজারে অবরোধকারীদের বাধায় পড়ে। বর্তমানে পর্যটকরা সেখানেই অবস্থান করছেন।
আন্দোলনকারী সংগঠন দুটি জানিয়েছে, তিন দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা আবার অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন। ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপের কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালানো হচ্ছে। ভয়ভীতি ও মৃত্যুর হুমকির কারণে অনেকে ঘরছাড়া হয়েছেন বলে দাবি তাদের।
আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। অর্থাৎ দাবি পূরণের কোনো অগ্রগতি না হলে অবরোধ কত দিন চলবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর তিন দফা দাবিতে প্রথমবারের মতো অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর আবার অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।
দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে তৃতীয় দফার অবরোধ শুরু হয়েছে। ফলে একই দাবিতে বারবার অবরোধ, পর্যটকদের আটকে পড়া এবং প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন — এই তিনটি বিষয়ই এখন সাজেক পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছে।
আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে তাদের ফেরার কথা থাকলেও অবরোধের কারণে সেই সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয় কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।




