১২ বছর ধরে ভাঙাচোরা সড়কে দুর্ভোগ ভোলার ইলিশার হাজারো মানুষের, সংস্কারের অপেক্ষা ফুরোচ্ছে না
ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। প্রায় এক যুগ ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ইলিশার চর আনন্দ থেকে রৌদ্রের হাট পর্যন্ত সড়কটি, আর খানাখন্দে ভরা এই পথে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের কাছে সড়কটি শুধু যাতায়াতের পথ নয়, শহরমুখী যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যমও। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে দুই ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে অনেক যানবাহনচালক এই পথ দিয়ে চলাচল করতে চান না। বাধ্য হয়ে স্থানীয়দের অনেককে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয়, আর তাতে সময় ও কষ্ট দুটোই বাড়ছে।
এই দুর্ভোগে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন শিক্ষার্থী, রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ পথচারীরা। অসুস্থ কাউকে নিয়ে ভাঙা সড়ক পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানো যেমন কঠিন, তেমনি প্রতিদিনের স্কুলযাত্রাও হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভরা।
স্থানীয় পথচারী কবির হোসেন বলেন, ‘রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। কয়েক দিন আগে একটি রিকশা উল্টে কয়েকজন যাত্রী আহত হন। ওই রিকশায় থাকা একজন যাত্রীর হাত ভেঙে যায়। এর আগেও এ সড়কে দুর্ঘটনায় এক শিশু মারা গেছে।’ তাঁর এই বক্তব্যেই সড়কটির ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অটোরিকশাচালক রাকিব বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিনই অটোরিকশার কোনো না কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে আমাদের বারবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হলে চালক ও যাত্রী—সবারই উপকার হবে।’ চালকদের আয়ের ওপরও এই ভাঙা সড়ক সরাসরি আঘাত হানছে।
ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান বলেন, ‘সড়কটি ভাঙাচোরা থাকায় সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হয়। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়কটি মেরামত করা প্রয়োজন।’
দুর্ঘটনা ঘটছে, যানবাহন নষ্ট হচ্ছে, মানুষ আহত হচ্ছেন—তারপরও সড়কটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ অপেক্ষায় তাঁদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার প্রায় ১২টি সড়কের একটি তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় চর আনন্দ থেকে রৌদ্রের হাট পর্যন্ত সড়কটিও রয়েছে।
তবে কবে নাগাদ সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তালিকায় নাম থাকা আর কাজ শুরু হওয়ার মধ্যে এই অনিশ্চয়তাই এখন ইলিশা ও রাজাপুরের মানুষের প্রধান উদ্বেগ।
স্থানীয়দের দাবি একটাই—আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হোক। কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিনের এই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতই হবে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের নিয়তি।






