টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপ ফেটে বিস্ফোরণ: দগ্ধ দম্পতির মৃত্যু, আইসিইউতে মেয়ে
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপে ছিদ্র থেকে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় তাঁদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বুধবার রাত আটটার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দম্পতির মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন লাল চান মিয়া (৬০) ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা (৫০)। লাল চান মিয়া ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার কুড়িপাড়া এলাকার মান্নাছ আলীর ছেলে, আর নাসিমা একই এলাকার ইয়াকুব আলীর মেয়ে। তাঁরা পরিবার নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের মুদাফা এলাকায় মাস্টার বাড়ির পাশে ফখরুল হাসানের বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাতটার দিকে ওই বাসায় রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপে ছিদ্র হয়ে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে যায়। একপর্যায়ে জমে থাকা সেই গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণ ও আগুনে ঘরে থাকা লাল চান মিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসিমা ও তাঁদের মেয়ে তানিশা (১৬) গুরুতর দগ্ধ হন। সকালের শান্ত পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় আতঙ্ক আর আর্তনাদে।
পরে প্রতিবেশীরা দগ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকদের চেষ্টার মধ্যেই বুধবার রাতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই মারা যান।
মেয়ে তানিশা এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাবা-মাকে হারানোর খবরের পাশাপাশি নিজের জীবন বাঁচানোর লড়াইও চালিয়ে যেতে হচ্ছে এই কিশোরীকে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান জানান, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁদের মেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছে। নিহতদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই ঘটনা আবারও বাসাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ঝুঁকির দিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। পাইপে ছোট্ট একটি ছিদ্র থেকে গ্যাস জমে যে এমন প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, তা অনেক ব্যবহারকারীরই ধারণার বাইরে থেকে যায়।
সিলিন্ডারের পাইপ ও সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা, গ্যাসের গন্ধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে চুলা ও বৈদ্যুতিক সুইচ থেকে সতর্ক থাকা এবং ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা—এ ধরনের সাধারণ সতর্কতাই এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
মুদাফা এলাকার এই পরিবারটির জন্য বুধবারের সকালটি ছিল আর পাঁচটা দিনের মতোই—কিন্তু কয়েক মুহূর্তের বিস্ফোরণে সব বদলে গেছে। এখন সবার প্রার্থনা একটাই, আইসিইউতে থাকা তানিশা যেন সুস্থ হয়ে ফিরতে পারে।






