…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আন্তর্জাতিক › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আন্তর্জাতিক

এল-ফাশেরে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে হাসপাতালগুলো: তদন্তে উঠে এলো ভয়াবহ চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহরে দীর্ঘ অবরোধ ও পরে শহরটির পতনের সময় আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) পরিকল্পিতভাবে শহরের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করেছে বলে এক তদন্তে উঠে এসেছে। শহরের ভেতরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তত ৪৩টি আলাদা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার কোনো কোনোটি একাধিকবার আঘাত হেনেছে একই স্থাপনায়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক এই তথ্যকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে আরএসএফের একাধিক হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এগুলো যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক আইনে সংঘাতের সময় স্বাস্থ্য স্থাপনা বা তার কর্মীদের ওপর হামলা নিষিদ্ধ।

তদন্তে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ভয়াবহ হিসাবও উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ১২০ জন চিকিৎসাকর্মী আহত, ৫৫ জন নিহত এবং ১০ জন জোর করে ‘গুম’ বা অপহৃত হয়েছেন বলে তথ্য মিলেছে। এল-ফাশেরে অবরোধের সময় কর্মরত সার্জন ডা. মুহাম্মদ সুলিমান বলেছেন, আরএসএফ হাসপাতালগুলো অকেজো করে দিতে চেয়েছিল, কারণ স্বাস্থ্যব্যবস্থাই যেকোনো শহরের প্রাণভিত্তি; সেটি ভেঙে পড়লে নাগরিকদের আর থাকার উপায় থাকে না। তাঁর কথায়, হামলাগুলো ছিল তীব্র, ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত।

অন্যদিকে আরএসএফ-ঘনিষ্ঠ বেসামরিক সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই অভিযোগগুলোকে প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, জাতীয় সেনাবাহিনী ও তার মিত্ররা আরএসএফের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এসব কথা ছড়াচ্ছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, এল-ফাশেরের ঘটনাগুলো সুদানের সংঘাতে স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রভাবের ‘সবচেয়ে স্পষ্ট ও গুরুতর উদাহরণগুলোর একটি’।

২০২৩ সালের এপ্রিলে আরএসএফ ও সুদানের সেনাবাহিনীর মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এল-ফাশেরের কয়েকটি চিকিৎসা স্থাপনা বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে ছিল শহরের মাঝখানে সংঘাতপ্রবণ এলাকায় থাকা প্রধান টিচিং হাসপাতাল। সেখানকার সেবা সরিয়ে নেওয়া হয় সাউথ হাসপাতালে, যেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সরবরাহ সংকটের মধ্যেও চিকিৎসা চলছিল।

পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায় এক বছর পর, যখন আরএসএফ এল-ফাশের অবরোধ শুরু করে। ২০২৪ সালের মে মাসের শেষ ও জুনের শুরুতে শহরের পূর্ব দিক থেকে আধা সামরিক যোদ্ধারা এগিয়ে আসার সময় সাউথ হাসপাতালে কয়েকবার গোলাবর্ষণ হয়। হাসপাতালটি তখন শল্যচিকিৎসা দিতে সক্ষম একমাত্র সচল হাসপাতাল হওয়ায় চারপাশে প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল বলে জানিয়েছেন ডা. সুলিমান; একদিন সেখানে ১৬ জন আহত রোগীর অপারেশন করা হয়।

হামলার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ৮ জুনের অভিযানে। হাসপাতালের ফার্মাসি বিশেষজ্ঞ ডা. মুস্তফা আহমেদ জানিয়েছেন, আরএসএফ যোদ্ধারা ভবনে ঢুকে পড়লে অনেক কর্মী পেছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। হাসপাতালের মহাপরিচালক সার্জন ইজ্জেলদিন আহমেদ দাওয়াউদ আসো তাঁর কার্যালয়ের বাইরে একদল আধা সামরিক সদস্যের মুখোমুখি হন; তারা তাঁকে চিকিৎসক হিসেবে চিনতে পারেনি এবং জাতিগত গালাগাল করে।

ডা. আসো বলেছেন, রাইফেলের বাঁট দিয়ে তাঁকে পেটানো হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারান। শেষ পর্যন্ত মৃতের ভান করে তিনি প্রাণ বাঁচান—বুকে হাত রেখে শ্বাস বন্ধ রাখায় যোদ্ধারা তাঁকে মৃত ভেবে ফেলে যায়। সেদিনই সেনাবাহিনী ও মিত্ররা আরএসএফকে হটিয়ে দিলে তিনি ফিরে এসে কয়েকজন রোগীর মরদেহ এবং অপারেশন কক্ষের যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ ধ্বংস অবস্থায় দেখতে পান। হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে সেনাবাহিনী পিছু হটলে তা আরএসএফের হাতে পড়ে।

বিশিষ্ট সার্জন ডা. আলাএলদিন নুগুদ, যিনি আরএসএফ-সমর্থিত বেসামরিক সরকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগ দিয়েছেন, দাবি করেছেন সাউথ হাসপাতালটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক আইনে কোনো হাসপাতাল ‘শত্রুর ক্ষতি করার কাজে’ ব্যবহৃত হলে তার সুরক্ষা হারাতে পারে। তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক বসানোর দাবি করে হাসপাতাল বন্ধের এক বছরেরও বেশি সময় পরে ধারণ করা অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের ভিডিও দেখিয়েছেন। তবে চিকিৎসকেরা বলেছেন, হাসপাতালটি ঘাঁটির অংশ ছিল না; তদন্তেও তাঁর অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ মেলেনি এবং দারফুর অঞ্চলের সরকার অভিযোগগুলো স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সাউথ হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেলে কর্মী ও অবশিষ্ট সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয় শহরের পশ্চিমে সেনাবাহিনীর প্রধান ঘাঁটির কাছে অবস্থিত সৌদি প্রসূতি হাসপাতালে। কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে হামলার গতি বেড়ে যায়। তখন চিকিৎসা দাতব্য সংস্থা মেদসাঁ সঁ ফ্রন্তিয়ের (এমএসএফ) সতর্ক করে বলেছিল, হাসপাতালগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে কি না তা তারা জানে না, তবে যুদ্ধরত পক্ষগুলো সেগুলোকে রেহাই দেওয়ার কোনো সতর্কতা নিচ্ছে না। ছয়জন চিকিৎসকের বর্ণনায় অবশ্য পদ্ধতিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার ধারাবাহিক চিত্রই উঠে এসেছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি হাসপাতালে বারবার হামলা হয়েছে—কোনো কোনো দিন গোলাবর্ষণ ও ড্রোন মিলিয়ে ২৫ বার পর্যন্ত। ছোট ছোট বেসরকারি হাসপাতাল ও পাড়ার ক্লিনিকগুলোও গোলার মুখে পড়েছে এবং একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থাপনা স্থানান্তরিত হওয়ার পর নতুন ঠিকানাতেও হামলা হয়েছে: বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দুই জায়গায় সরে গিয়েও গোলাবর্ষণে বন্ধ হতে বাধ্য হয়, প্রধান ডায়ালাইসিস কেন্দ্রটিও স্থানান্তরের পর আবার আক্রান্ত হয়।

২০২৫ সালের অক্টোবরে আরএসএফ শহরটি দখল করার সময় সৌদি হাসপাতালই ছিল একমাত্র সচল স্বাস্থ্য স্থাপনা। কর্মীরা বালির বস্তা দিয়ে ভবন রক্ষা, ইস্পাতের কনটেইনার দিয়ে ভূগর্ভস্থ বাংকার তৈরি এবং বিকল্প স্থানে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করে কাজ চালিয়ে গেছেন। ডা. আসো জানিয়েছেন, এই অস্থায়ী অস্ত্রোপচার কক্ষে ২০২৫ সালে পাঁচবার হামলা হয়েছে; একবার এক রোগীর গলায় অপারেশন চলার সময় বিস্ফোরণে ভবন কেঁপে উঠলেও তিনি কাজ ছেড়ে যাননি।

রোগী স্থানান্তরের মুহূর্তেও হামলার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ আহতদের অস্থায়ী ওয়ার্ডে নেওয়ার সময় একটি ‘শিকারি ড্রোন’ তাদের অনুসরণ করে ভবনের ফটকে আঘাত হানে, এতে নয়জন নিহত হন। একই বছরের ১৭ আগস্ট সব অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় গাধার গাড়িতে রোগী নেওয়ার সময় ড্রোন হামলায় দুই রোগী, চালক ও গাধাটি মারা যায়। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা এল-ফাশেরের লড়াইয়ে ‘গণহত্যার ছাপ’ দেখেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তদন্ত প্রকাশ্যে এলো এল-ফাশেরের পতনের এক বছর পর—যা ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের সবচেয়ে নৃশংস অধ্যায়গুলোর একটি। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই স্বাস্থ্য স্থাপনায় হামলার অভিযোগ রয়েছে; ২০২৬ সালের মার্চে আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত পূর্ব দারফুরের আল-দাইন হাসপাতালে বোমা হামলায় বহু মানুষ নিহত ও হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেলে ডব্লিউএইচও তার নিন্দা জানায়, সেই হামলার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হলেও তারা দায় অস্বীকার করেছে। এল-ফাশেরের চিত্র এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্তের চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

নির্বাচনের আগে বেলগ্রেডে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দেড় লাখ মানুষের মহাসমাবেশ, চাপে ভুচিচের দল

সার্বিয়ায় রোববারের গুরুত্বপূর্ণ সংসদ নির্বাচনের আগে বৃহস্পতিবার রাজধানী বেলগ্রেডের কেন্দ্রে বিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমর্থনে প্রায় দেড় লাখ মানু…

আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ার পতাকা নিয়ে মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার পথে ক্যাথরিন বেনেল-পেগ, ইউরোপীয় সংস্থাকে প্রস্তাব ক্যানবেরার

অস্ট্রেলিয়া সরকার ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইএসএ-কে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যাতে ‘অস্ট্রেলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ নভোচারী ক্যাথরিন বেনেল-পেগ আন্তর্জা…

আন্তর্জাতিক

নির্বাচনি অর্থায়ন তদন্তে ইকুয়েডরের বিরোধী নেতা লুইসা গনসালেস গ্রেফতার

ইকুয়েডরের বিরোধী নেতা লুইসা গনসালেসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের অর্থায়নে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে চলা তদন্তে…

আন্তর্জাতিক

পতাকা তোলা নিয়ে সংঘর্ষে উত্তপ্ত মোয়ালে, শত শত ইথিওপীয় পালিয়ে কেনিয়ায়

ইথিওপিয়ার সীমান্ত শহর মোয়ালে আঞ্চলিক বাহিনীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় শত শত মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী কেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। কেনিয়…