কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্পের বিজয়তোরণ ঠেকাতে আদালতে প্রবীণ সেনারা, নির্মাণ শুরুর তারিখ জানাল প্রশাসন
আর্লিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রের কাছে প্রস্তাবিত বিজয়তোরণ নির্মাণের কাজ আগামী ৫ নভেম্বর শুরু হতে পারে — বুধবার এমন ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এরপরই প্রকল্পটির বিরোধীরা একজন ফেডারেল বিচারকের কাছে আবেদন করেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ ঠেকাতে যেন আদালত আদেশ দেন।
প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার এই আবেদন এসেছে বিচার বিভাগ আদালতে নোটিশ দিয়ে নির্মাণ শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানানোর এক দিন পরেই। নোটিশ অনুযায়ী, জাতীয় রাজধানী পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পরপরই ৫ নভেম্বর কাজ শুরু হতে পারে।
এর আগে বিচারক তানিয়া চাটকান নির্দেশ দিয়েছিলেন, তোরণের কাজ শুরু করার অন্তত ১৪ দিন আগে সরকারকে জানাতে হবে। বুধবারের নোটিশ সেই সময়সীমার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলেই প্রশাসনের দাবি। বৃহস্পতিবার থেকে হিসাব করলে কাজ শুরুর সম্ভাব্য সময় মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে।
তোরণের বিরুদ্ধে মামলা করা ভিয়েতনামযুদ্ধকালের প্রবীণ সেনারা চাটকানকে এগিয়ে আসতে বলেছেন, যাতে আদালত প্রকল্পটি বেআইনি কি না সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগেই প্রশাসন তোরণটিকে ‘সম্পন্ন বাস্তবতা’ বানিয়ে ফেলতে না পারে।
প্রবীণদের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসন দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেছে — জায়গা পরীক্ষা করেছে, স্থাপত্য নকশা তৈরি করেছে এবং প্রশাসনের বন্ধুদের দিয়ে গঠিত কমিশনগুলোর কাছ থেকে অনুমোদন আদায় করেছে।
অথচ আবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে প্রশাসন আইন অনুযায়ী যে একটি মাত্র সংস্থার অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক — সেই কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়নি, এমনকি চাইতেও যায়নি। এটাই মামলার মূল আইনি প্রশ্ন।
প্রশাসনের যুক্তি ভিন্ন। তাদের দাবি, ১৯২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের সই করা মেমোরিয়াল ব্রিজ নির্মাণের আইনই তোরণ নির্মাণের অনুমোদনও দেয়, কারণ সেতুর প্রাথমিক পরিকল্পনায় সেতুর প্রান্তে স্তম্ভ নির্মাণের কথা ছিল।
বিরোধীরা এই যুক্তিকে ১৯২৫ সালের আইনের পাঠ থেকে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, এক শতাব্দী পুরোনো সেতু আইনের মধ্যে আধুনিক একটি বিশাল তোরণের অনুমোদন খুঁজে পাওয়া যায় না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২৫০ ফুট উঁচু তোরণটি বসবে পোটোম্যাক নদীর অপর পাড়ে লিংকন মেমোরিয়ালের বিপরীতে, জাতীয় সমাধিক্ষেত্রের পাদদেশে একটি যানচলাচলের চত্বরে। স্থানটির প্রতীকী গুরুত্বই বিতর্ককে আরও বড় করেছে।
প্রকল্পটি নিয়ে প্রবীণ সেনাদের পাশাপাশি সংরক্ষণবাদীরাও আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। ফলে তোরণ প্রশ্নে একাধিক দিক থেকে আদালতের লড়াই চলছে।
প্রশাসন গত সেপ্টেম্বরে স্বীকার করেছিল, তোরণটি নদী তীরের পরিবেশ ও দৃশ্যপটের ওপর ‘বিরূপ প্রভাব’ ফেলবে। তবে তাদের যুক্তি, এই প্রভাব ‘পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়’, কারণ তোরণের অবস্থানই এই উদ্যোগের ‘কেন্দ্রীয়’ বিষয়।
এখন প্রশ্ন হলো, ৫ নভেম্বরের সম্ভাব্য নির্মাণ শুরুর আগেই আদালত নিষেধাজ্ঞা দেন কি না। আদালত হস্তক্ষেপ করলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রশ্নে শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পটি আটকে থাকবে; আর নিষেধাজ্ঞা না এলে প্রশাসন পরিকল্পনা কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরপরই কাজ শুরু করতে পারে।






