…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
রাজনীতি

ইশরাকের পদত্যাগ ক্ষমতাসীন নেতাদের জন্য সতর্কবার্তা: পদ ছাড়লেই শেষ নয় আইনি জবাবদিহির প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়া ইশরাক হোসেনের ঘটনা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর তৎপরতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিতর্কের মুখে তাঁকে পদ ছাড়তে হয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, রাজপথের আন্দোলন এবং মেয়র হওয়ার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নিজের একটি শক্ত পরিচিতি তৈরি করেছিলেন প্রয়াত মেয়র ও মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ছিল তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার বড় অর্জন।

কিন্তু সেই অর্জন ধরে রাখার মতো দায়িত্বশীলতার পরিচয় শেষ পর্যন্ত তিনি দিতে পারেননি বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্যের গেন্ডারিয়ার কর্মকাণ্ডকে ক্ষমতার প্রকট প্রদর্শন ও রাজনৈতিক অপরিপক্বতার উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

মাদক নির্মূলের উদ্দেশ্য ইতিবাচক, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। মাদক এখন দেশের প্রধান সমস্যাগুলোর একটি, লাখো পরিবারের জন্য তা অভিশাপের মতো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মসহ অগণিত মানুষকে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলেছে। তবে সেই উদ্দেশ্য ভালো হলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা বৈধ হলেও প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা যায় কি না — সেই প্রশ্নটিই বিতর্কের কেন্দ্রে।

আলোচনায় বলা হচ্ছে, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রথমত রাষ্ট্রযন্ত্রের দায়িত্ব এবং সেই ব্যবস্থা নেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইশরাকের দায়িত্ব প্রয়োজনে অপরাধ দমনকারী সংস্থাকে সহায়তা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল; সেই গণ্ডি পেরিয়ে তিনি নিজেই আইন প্রয়োগকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন কি না, সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

পদত্যাগের ঘোষণার আগে ও পরে ইশরাক হোসেন বলেছিলেন, আত্মরক্ষার জন্য তিনি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাঁর কাছে খবর ছিল, ঘটনাস্থলে সশস্ত্র অপরাধীদের দ্বারা তিনি আক্রান্ত হতে পারেন। তাঁর এই বক্তব্য তদন্তে বিবেচনায় নিতে হবে বলেও আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ইশরাক হোসেনকে সময়ক্ষেপণ না করে স্পষ্ট ভাষায় পদত্যাগ করতে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল ও সরকারের অন্যদের জন্য একটি বার্তা দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেক বাড়াবাড়ি ও অনিয়ম উপেক্ষিত হয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে — সীমা ছাড়িয়ে গেলে তার মূল্য দিতে হবে।

ঘটনার তাৎপর্য কেবল একজন প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-মন্ত্রীরা ক্ষমতা প্রয়োগে কোন পর্যন্ত যেতে পারবেন এবং মাত্রা ছাড়ালে কী পরিণতি হতে পারে, সে বিষয়ে একটি অলিখিত কিন্তু স্পষ্ট নির্দেশনা উঠে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইশরাকের ঘটনা প্রসঙ্গে মিরপুরের রাড্ডা বারনেনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সাম্প্রতিক পদত্যাগের কথাও সামনে এসেছে। এসব ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ মাত্রা ছাড়ালে বা বড় বিতর্ক তৈরি হলে শীর্ষ নেতৃত্ব চরম ব্যবস্থা নিতে পারে।

তবে এখানে আরেকটি দিকও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে — দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আর প্রচলিত আইনের কাছে জবাবদিহি এক নয়। পদত্যাগের মাধ্যমে কেউ সরকারি বা দলীয় পদ হারাতে পারেন, কিন্তু তাতে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইন ভাঙা হয়েছে কি না এবং সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয় না। আইনের শাসনের অর্থ ক্ষমতাবান ও সাধারণ নাগরিকের জন্য একই আইনি মানদণ্ড নিশ্চিত করা।

প্রসঙ্গ উঠেছে ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেরও। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম বড়ভাবে আলোচনায় আসেন ইশরাক। পরে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁকে মেয়র ঘোষণা করার ঘটনা ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক মাইলফলক। কিন্তু মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে সমর্থকদের আন্দোলন একপর্যায়ে নগর ভবন ঘেরাও, ফটকে তালা দেওয়া এবং দীর্ঘদিন নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় গড়ায়, যা নিয়েও তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও ইশরাকের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের আপত্তির জবাবে তাঁর ভাষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল এবং তা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নয় বলে আলোচনায় বলা হয়েছে।

পেছনের প্রেক্ষাপটে রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান এবং পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপির ক্ষমতায় ফেরা। জনগণ শুধু শাসকের পরিবর্তন চায়নি, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছে — সেই প্রত্যাশার সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের আচরণ মিলছে কি না, সেই প্রশ্ন এখন বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহল থেকে উঠছে।

ইশরাক হোসেন সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে থাকবেন; প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি নয়। তবে এই ঘটনা তাঁর এবং ক্ষমতাসীন দলের অন্য নেতা-কর্মীদের জন্য আত্মবীক্ষণের সুযোগ তৈরি করেছে — ক্ষমতা সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবহার করতে না পারলে তা দ্রুত দায়ে পরিণত হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

কুষ্টিয়ায় মসজিদের আলোচনা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত হাতাহাতি, দুই পক্ষের চারজন আহত

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একটি মসজিদে নামাজ-পরবর্তী আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘ…

রাজনীতি

আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি 'গুপ্ত দল', অপপ্রচারে মেতেছে দুজনেই: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগ ছিল একটি অপপ্রচারকারী দল, আর তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি 'গুপ্ত দল'—দুজন মিলে এখন …

রাজনীতি

জামায়াতকে বাইরে রেখে সাত ইসলামী দলের ঐক্য: ‘সমমনা ইসলামী দল’ প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজের সিদ্ধান্ত

জামায়াতে ইসলামীকে বাইরে রেখে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী রাজনৈতিক দল অভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে এই …

রাজনীতি

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসে দ্বিমুখী উদ্যোগ: বিশ্বব্যাংকের গ্যারান্টি চায় সরকার, তিতাসে নতুন দুই কূপ

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্বিমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একদিকে তরলীকৃত প্রাকৃ…