উইলিয়ামসের ঝলকে প্যাট্রিয়টসকে হারিয়ে বেয়ার্সের টানা জয়
শিকাগো বেয়ার্স কোয়ার্টারব্যাক ক্যালেব উইলিয়ামস ঝলমলে পারফরম্যান্সে ৩০৮ গজ পাস করে দুটি টাচডাউন দেন এবং বৃহস্পতিবার রাতে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসকে ৩০-২৪ গোলে হারায় শিকাগো।
জয়টির ফলে বেয়ার্সের রেকর্ড এখন ৫ জয়, ২ হার — আর কোচ বেন জনসন ও ক্যালেব উইলিয়ামসের জুটি আবারও এনএফএল ভক্তদের মুগ্ধ করল।
মাত্র ছয় পয়েন্টের ব্যবধানে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচে ড্রেক মে'র দ্বিতীয় কোয়ার্টারে এন্ড-জোনে করা এক ইন্টারসেপশন নির্ণায়ক ভূমিকা রাখে। নিশ্চিত পয়েন্টের বদলে বল হারানোয় রাতভর ম্যাচে পেছন থেকে ধাওয়া করতে বাধ্য হয় নিউ ইংল্যান্ড। মে'র এবারের মৌসুমে এন্ড-জোনে এটি ছিল তৃতীয় ইন্টারসেপশন।
হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে ফিরে দ্বিতীয় ম্যাচে উইলিয়ামস ৩২টি পাসের মধ্যে ২২টি সম্পূর্ণ করে ৩০৮ গজের পারফরম্যান্স দেখান। ২০১৮ সালে মিচ ট্রুবিস্কির পর তিনি প্রথম বেয়ার্স কোয়ার্টারব্যাক যিনি টানা দুই ম্যাচে ৩০০ গজের বেশি পাস করলেন।
বেয়ার্স রানিং ব্যাক ডি'আন্ড্রে সুইফট খেলা শেষে বলেন, 'উইলিয়ামস মাঠে থাকাটা অসাধারণ। তার নেতৃত্ব, তার প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা — এখানকার সবাই অনুভব করে। সে আমাদের তাতিয়ে তোলে।'
২০২৪ এনএফএল ড্রাফটের দীর্ঘদিনের বন্ধু উইলিয়ামস ও মে'র মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াই। শিকাগো প্রথম পিকে উইলিয়ামসকে নিয়েছিল, নিউ ইংল্যান্ড তৃতীয় পিকে নিয়েছিল মে'কে।
বেয়ার্সের লুথার বার্ডেন ৪টি ক্যাচে ১৩০ গজ করেন, কোলস্টন লাভল্যান্ড ১২ গজের টাচডাউন ক্যাচ ধরেন।
খেলার শেষ দিকে কায়রো সান্টোসের ৫৮ গজের ফিল্ড গোল ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা দূরত্বের এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি রেকর্ডের সমান। ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড বাকি থাকতে এই কিক বেয়ার্সকে ৩০-২১ এ এগিয়ে দেয়।
তবে মে নিউ ইংল্যান্ডকে শেষ মিনিটে ফিরিয়ে আনেন — অ্যান্ডি বোরেগালেসের ৪৭ গজের ফিল্ড গোলে ৩৭ সেকেন্ড বাকি থাকতে ব্যবধান কমে ৩০-২৪ হয়। কিন্তু অনসাইড কিক উদ্ধার করে শিকাগো ঘড়ি চালিয়ে ম্যাচ শেষ করে।
মে ৩১টি পাসের মধ্যে ২৪টি সম্পূর্ণ করে ৩২১ গজ ও দুটি টাচডাউন করেন। টানা তিন জয়ের পর নিউ ইংল্যান্ডের (৪ জয়, ৩ হার) ধারাবাহিকতা ভাঙল; সেই ধারাবাহিকতায় মে ১০টি টাচডাউন পাস ও মাত্র একটা ইন্টারসেপশন করেছিলেন।
রামোনড্রে স্টিভেনসন প্যাট্রিয়টসের হয়ে পাঁচটি ক্যাচে ৯৩ গজ ও একটা টাচডাউন করেন; প্রথমার্ধ শেষের আগে তার ৪৮ গজের টাচডাউন রানে নিউ ইংল্যান্ড ভয়ংকর ব্যবধানের হাত থেকে রক্ষা পায়।
মাইক ডিটকার মৃত্যুর (৯ অক্টোবর) পর এটি ছিল শিকাগোর প্রথম হোম ম্যাচ। হল অব ফেম টাইট এন্ড ও দীর্ঘদিনের কোচের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রাক-খেলায় মুহূর্তের নীরবতা পালন করা হয়; ৬০,৫২০ দর্শকের অনেকেই তার স্মৃতিতে নকল গোঁফ পরেন।
প্রথম কোয়ার্টারে সান্টোসের ৪৩ গজের ফিল্ড গোল ও সুইফটের চার গজের টাচডাউন রানে বেয়ার্স ১০-০ এ এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুতে মে'র সাত গজের রানে নিউ ইংল্যান্ড জবাব দেয়।
প্রথমার্ধের শেষ ১৪ সেকেন্ডে দুই দলই টাচডাউন বিনিময় করে — বার্ডেনের কাছে উইলিয়ামসের ২৪ গজের টাচডাউন পাসের পর মে ৪৮ গজের পাসে টাচডাউন করেন।
কোচ জনসনের শেষ মিনিটের ঘড়ি-ব্যবস্থাপনা ছিল দুর্দান্ত; ফলে প্যাট্রিয়টসের কোচ (জনসনের সাবেক বস ভ্রেবেল) দেখতে বাধ্য হলেন কীভাবে তার শিষ্য তাকে ছাপিয়ে গেল।






