নির্বাচনের ফল সনদায়নে হস্তক্ষেপ উড়িয়ে দিলেন না মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্ল্যাঞ্চ, ‘ডুমসডে’ পরিস্থিতির কথা বললেন
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল সনদায়ন (সার্টিফিকেশন) প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগের (ডিওজে) হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার ভার্জিনিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি চরম কাল্পনিক পরিস্থিতি — তার ভাষায় ‘ডুমসডে সিনারিও’ — ঘটলে ফেডারেল পদক্ষেপ আসতে পারে বলে মন্তব্য করেন।
ব্ল্যাঞ্চ বলেন, নির্বাচনে ‘অনুচিতভাবে হস্তক্ষেপ’ করা তার উদ্দেশ্য নয়; কিন্তু ভবিষ্যতে ঠিক কী ঘটবে তা তিনি জানেন না বলে এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তার ভাষায়, ‘অবশ্যই এমন পরিস্থিতির কথা আমরা সবাই কল্পনা করতে পারি — যেমন ধরুন কোনো ডুমসডে পরিস্থিতি, তাই না? তাই ভবিষ্যতে কী হবে সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেওয়া আমার কাছে সঠিক মনে হয় না, কারণ ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে আমি জানি না।’
কোনো পরিস্থিতিতেই বিচার বিভাগ জড়াবে না — এমন কথা তিনি বলবেন কি না জানতে চাইলে ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ‘অবশ্যই আমি তা বলব না।’ তবে তিনি যোগ করেন, নির্বাচনের দিনগুলোতে কোথাও গিয়ে সনদায়ন ঠেকানোর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি দিন কাটাচ্ছেন না: ‘একদমই না, মোটেও না।’
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব সংবিধান ও ফেডারেল আইন অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের হাতে। বিচার বিভাগের ভূমিকা মূলত সীমিত — নাগরিক অধিকার রক্ষা করা এবং নির্বাচনি আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা। ব্যালট চ্যালেঞ্জ করা কিংবা কোনো অঙ্গরাজ্যের ফল সনদায়ন বিলম্বিত করার নির্দিষ্ট কোনো ক্ষমতা ফেডারেল আইনে বিভাগটিকে দেওয়া হয়নি।
নরফোকে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্ল্যাঞ্চকে প্রশ্ন করা হয় অঙ্গরাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের মামলাগুলো নিয়ে — যেসব মামলায় কর্মকর্তাদের সম্পাদনাহীন (আনরিডাক্টেড) ভোটার তথ্য হস্তান্তরে বাধ্য করতে এবং ফেডারেল সরকারের দাবি অনুযায়ী সম্ভবত অনাগরিক হাজার হাজার ভোটারের ব্যালট গণনা বন্ধ করতে চাওয়া হয়েছে।
ব্ল্যাঞ্চ বলেন, বিচার বিভাগ ‘বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে না’, বরং সম্ভাব্য সমস্যা সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সতর্ক করতে চাইছে। তার ভাষায়, ‘আমি কোনো নির্বাচনের সনদায়ন ঠেকানোর চেষ্টা করছি না। অবশ্যই না। আমরা যা করতে চাইছি তা হলো আমেরিকান জনগণের কাছে এই নিশ্চয়তা দেওয়া যে শুধু ভোট দেওয়ার যোগ্যরাই ভোট দিচ্ছেন।’
ব্ল্যাঞ্চের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার (ডেমোক্র্যাট, নিউইয়র্ক) বলেন, সিনেট ডেমোক্র্যাটরা ‘মাসের পর মাস ধরে এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তৈরি থাকবেন’ — প্রশাসনের কর্মকর্তারা যা-ই করার চেষ্টা করুন না কেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লেখেন, ‘ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠরা এই নির্বাচন চুরি করার চেষ্টা করলে আমরা প্রতিটি মোড়ে তাদের মোকাবিলা করছি। আমাদের নির্বাচন সব সময় ভোটারদেরই হতে হবে — ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়।’
প্রশাসন গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ, ফেডারেল সরকার সম্ভবত অনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা নামগুলো পর্যালোচনায় কর্মকর্তারা যথেষ্ট দ্রুত ব্যবস্থা নেননি। মামলায় বিচার বিভাগ আদালতের কাছে চেয়েছে, ওই ব্যক্তিদের যোগ্যতা নিশ্চিত না হলে তাদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা থেকে অঙ্গরাজ্যকে বিরত রাখতে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেটের দপ্তর জানিয়েছে, প্রায় ২০ হাজার নাম পর্যালোচনার জন্য তাদের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল।
বিচার বিভাগ অঙ্গরাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে আরও নির্বাচন-সংক্রান্ত মামলার কথাও ভাবছিল। তবে চলতি সপ্তাহে একজন ফেডারেল বিচারক নয়টি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন দিবস পর্যন্ত কিছু নির্বাচন-সংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে সীমিত করেছেন। প্রশাসনকে আপিলের সুযোগ দিতে বিচারক শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই আদেশ স্থগিত রেখেছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ডেমোক্র্যাট নেতারা ও নির্বাচনি অধিকার সংগঠনগুলো প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছে, যেখানে নির্বাচনের আগে ‘হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে এসেছেন, অনাগরিকদের ভোট নির্বাচনের সুষ্ঠুতার জন্য গুরুতর হুমকি। তবে গবেষণা ও বিচারিক নথি অনুযায়ী, ফেডারেল নির্বাচনে অনাগরিকদের ভোট দেওয়ার নথিভুক্ত ঘটনা ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত বিরল।
মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্ল্যাঞ্চের এই অবস্থান বিতর্ক আরও বাড়াবে বলেই মনে হচ্ছে — একদিকে প্রশাসন বলছে তারা শুধু যোগ্য ভোটারের নিশ্চয়তা চায়, অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন ফেডারেল হস্তক্ষেপের যেকোনো ইঙ্গিতই ভোটারদের অধিকারের ওপর চাপ। আগামী দিনগুলোতে আদালতের সিদ্ধান্ত ও অঙ্গরাজ্যগুলোর জবাবই নির্ধারণ করবে এই টানাপোড়েন কোন দিকে যায়।






