সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য ক্লাব পেল ঐতিহ্য সম্মাননা, বাংলা একাডেমিতে বই কার্নিভালের উচ্ছ্বাস
সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্যের আয়োজনে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলছে ১৭ দিনব্যাপী ‘ঐতিহ্য বুক কার্নিভাল ২০২৬’। এই কার্নিভালের অষ্টম দিনে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সাহিত্য ক্লাবকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
‘ঐতিহ্যের পাতায় নতুন দিনের গল্প’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কার্নিভালের লক্ষ্য পাঠক, লেখক, প্রকাশক ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের মধ্যে সাহিত্য ও সৃজনশীলতার নিবিড় সংযোগ গড়ে তোলা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হয় ‘ক্লাব-ডে: লিটারেচার ক্লাব সম্মাননা ও ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাব গেটটুগেদার’। এই আয়োজনে সাহিত্য ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাবের সদস্যরা অংশ নেন।
সম্মাননা পাওয়া সাতটি ক্লাব হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাহিত্য সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, ইডেন মহিলা কলেজের ‘অপরাজেয়’, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিআইইউ রিডার্স ক্লাব এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ইউএপি লিটারেচার ক্লাব।
ঐতিহ্য জানিয়েছে, বইপাঠ, লেখালেখি, সাহিত্যবিষয়ক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতার বিকাশে সাহিত্য ক্লাবগুলোর ভূমিকা তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের একত্র করার মধ্য দিয়ে বই, পাঠক ও প্রকাশনা জগতের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয় এই আয়োজনে, এমনটাই আয়োজকদের প্রত্যাশা।
এদিন ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাবের সদস্যদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে প্রথম স্থান অধিকার করেন হাসান মামুন, দ্বিতীয় হন রাফিদ আনজুম এবং তৃতীয় হন মাহবুবুল হাছান। বিজয়ীদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয় ঐতিহ্যের রচনাবলি।
দিনের অন্য আয়োজনের অংশ হিসেবে বিকেল সাড়ে ৫টায় মোড়ক উন্মোচন করা হয় সাইফ বরকতুল্লাহ রচিত ‘সংবাদপত্রে খালেদা জিয়ার মৃত্যু’ বইটির। মোড়ক উন্মোচন করেন কথাসাহিত্যিক অস্ট্রিক আর্যু, লেখক ও প্রকাশক নজরুল রাসেল এবং গ্রন্থটির রচয়িতা সাইফ বরকতুল্লাহ।
সাইফ বরকতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর দেশের প্রায় সব সংবাদপত্রেই গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। শুধু দেশীয় গণমাধ্যম নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং দাফনকে কেন্দ্র করে দেশের সংবাদপত্রগুলো সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজন করে। বিভিন্ন প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, স্মৃতিচারণা ও সম্পাদকীয়তে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, অবদান এবং প্রভাব নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রকাশিত হয়। এই বইটিতে মূলত সেসব সংবাদ ও প্রকাশনার বিষয়বস্তু, উপস্থাপনভঙ্গি এবং সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
লেখকের মতে, পাঠক, শিক্ষার্থী, গবেষক, লেখক এবং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ে আগ্রহী মানুষের জন্য বইটি ভাবনার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে গণমাধ্যম নিয়ে গবেষণা বা লেখালেখি করতে চান, তাদের জন্য এই গ্রন্থটি সহায়ক হতে পারে।
সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় সঙ্গীতসন্ধ্যা। এতে তরুণ শিল্পীরা সুফি ঘরানার গান পরিবেশন করেন।
কার্নিভালে ঐতিহ্যের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে ইলহাম, কাকাতুয়া, গ্রিপার মার্ক, নির্বাচিত, নু বুকস, রেড ও ধ্রুবপদ প্রকাশনা। ফুড পার্টনার হিসেবে রয়েছে নির্বাচিত পাকেরঘর।
বইপ্রেমীদের জন্য কার্নিভালে রয়েছে আকর্ষণীয় ছাড়ের সুযোগ। মজুত থাকা বইয়ে সর্বোচ্চ ৭১ শতাংশ এবং ঐতিহ্য প্রকাশিত রচনাবলিতে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া রচনাবলির পৃথক খণ্ড মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় কেনার সুযোগ রয়েছে। যেকোনো পরিমাণ বই কিনলেই উপহার হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে বুকমার্ক। অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বইয়েও থাকছে বিশেষ ছাড়। ১৭ দিনের এই আয়োজন বইপাঠ ও সাহিত্যচর্চাকে ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে আরও বিস্তৃত পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন অংশগ্রহণকারীরা।






