শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঠেকাতে ফ্রান্সজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
স্কুলের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আরও বেশি শিক্ষক নিয়োগ এবং নিজেদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবিতে ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা শিক্ষক-সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীভর্তি শ্রেণিকক্ষ এবং জরাজীর্ণ স্কুলভবনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। অনেক শ্রেণিকক্ষে ৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে পড়তে হয় বলে অভিযোগ তাদের।
গত সপ্তাহে বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতার সময় পুলিশ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। সেই অভিজ্ঞতার পর এবারের কর্মসূচি ঘিরে সরকার আগেভাগেই কঠোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে।
ফ্রান্সে ছয় মাস পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এমন উত্তেজনাকর রাজনৈতিক মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে, যা সরকারের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সুমায়া সারে শ্রমজীবী অধ্যুষিত এলাকার হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের ফেডারেশনের অন্যতম প্রধান মুখ। তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে আমাদের কেবল প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তার কোনোটিই রাখা হয়নি। আমরা চাই, প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি যেন বাস্তব ফলাফলও দেখা যায়। আমরা আমাদের হাই স্কুলগুলোতে প্রকৃত পরিবর্তন দেখতে চাই।’
এদিকে সহিংস বিক্ষোভ ঠেকাতে কড়া অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি সরকার। ভাঙচুরের আশঙ্কায় শনিবার প্যারিসের বিখ্যাত লুভর ও ওরসে জাদুঘরসহ বেশ কিছু জাদুঘর ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে।
রাজধানীর অনেক দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সুরক্ষার জন্য কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে ফেলা হচ্ছে, যাতে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শনিবার সরকার ৭০ হাজার পুলিশ ও জঁদার্ম সদস্যকে শহরের রাস্তায় মোতায়েন করছে। জঁদার্ম হলো জাতীয় পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ।
মোতায়েনে দাঙ্গা দমনকারী দলসহ অন্যান্য বিশেষায়িত এলিট ইউনিটকেও কাজে লাগানো হবে। এমনকি পুলিশ প্রশিক্ষণার্থীদেরও সহায়ক হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে, যা প্রস্তুতির ব্যাপকতাই তুলে ধরে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ গত সপ্তাহান্তের বিক্ষোভের সময় ঘটে যাওয়া ভাঙচুর ও লুটপাটের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে এবং যারা নানা ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের প্রতি কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে থাকবে—কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৭ অক্টোবর যা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের লুটপাট এবং সরকারি স্থাপনার ওপর হামলা যেন আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আমরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখব।’
শিক্ষার্থীদের দাবি আর সরকারের নিরাপত্তা প্রস্তুতি—দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থানে শনিবারের কর্মসূচি ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।






