গাজীপুরে বসতঘরে আগুনে দুই শিশুসহ দগ্ধ একই পরিবারের চারজন, মা ও দুই শিশুর অবস্থা গুরুতর
গাজীপুর মহানগরীর পশ্চিম ভুরুলিয়া এলাকায় বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুসন্তানসহ মা-বাবা দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মা ও দুই শিশুর অবস্থা গুরুতর।
শুক্রবার সকালে মহানগরীর জিএমপি সদর থানার পশ্চিম ভুরুলিয়া লালমাটি এলাকায় মিয়াজ উদ্দিন প্রধানের বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন মহসিন প্রধান (২৭), তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা আক্তার (২৩) এবং তাঁদের দুই সন্তান সাইয়ান (৬) ও সোয়াত (৪)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে মহসিন প্রধান ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের বসতঘরে আগুন জ্বলে ওঠে।
মহসিন জানালা ভেঙে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে পাশের কক্ষে থাকা তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করা হয়।
মহসিনের বাবা মিয়াজ উদ্দিন প্রধান বলেন, তাঁদের টিনের আধা পাকা বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।
স্থানীয় লোকজন প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি। পরে খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
মিয়াজ উদ্দিন জানান, আগুনে তাঁর পুত্রবধূর শরীরের ৪৫ শতাংশ এবং দুই নাতির শরীরের ২৫ শতাংশ করে পুড়ে গেছে। তাঁর ছেলে মহসিন সামান্য দগ্ধ হয়েছেন।
দগ্ধ চারজনকে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
আগুনে বাড়ির ছয়টি কক্ষ, একটি মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং দগ্ধ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন দগ্ধ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে যান। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।




