ধুনটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বাঁশের বেড়া, বন্ধ ক্রয়-বিক্রয়
বগুড়ার ধুনটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে গাছ রোপণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে জুমার নামাজের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার সুযোগে মামলার বিবাদীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের নলডাঙা গ্রামের বাসিন্দা রুস্তম আলী মণ্ডল ধুনট মৌজার ৫০১ নম্বর দাগে পাকুড়িহাটা গ্রামের মোতরাজ, কাইনচা, জলিল, করিম ও আজিজার নামের পাঁচ ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৭ শতক জমি ক্রয় করেন।
এরপর থেকে তাঁর ছেলে হাসান আলী ওই জমিতে আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি গড়ে তুলে ভোগদখল করে আসছেন। অর্থাৎ কয়েক দশক ধরে জমিটি বাদীপক্ষের দখলেই রয়েছে বলে মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে জমির বিক্রেতা পরিবারের সদস্যরা নকশা ও জমির পরিমাণ নিয়ে আপত্তি তুলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো জোর করে দখলের চেষ্টা করেন। সেই থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
এ ঘটনায় হাসান আলী বাদী হয়ে বিক্রেতা পরিবারের সদস্য রফিকুল ইসলাম ও বাদশা মিয়াসহ ১০ জনকে বিবাদী করে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। শুনানি শেষে আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি করে নিষেধাজ্ঞা দেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন।
মামলার বাদীপক্ষের দাবি, থানা-পুলিশ বিবাদীদের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে নিষেধ করে। এরপরও আজ দুপুরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে বাঁশের বেড়া দেওয়া ও গাছ রোপণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে চারটি প্রতিষ্ঠানে ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দোকানের সামনে বেড়া পড়ায় ক্রেতাদের আসা-যাওয়ার পথই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও কার্যত কোনো বেচাকেনা হচ্ছে না, আর প্রতিদিনের লোকসান গুনছেন তাঁরা।
খবর পেয়ে ধুনট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিষ্ঠানের সামনে বেড়া দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় এভাবে পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এখন আদালত এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয় এবং বেড়া সরিয়ে ব্যবসা স্বাভাবিক হয় কবে — সেদিকেই তাকিয়ে আছেন ধুনটের এই ব্যবসায়ীরা।






