সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ, জীবিকা রক্ষার দাবি
সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, চালক ও স্থানীয়রা। পর্যটননির্ভর জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে জানিয়ে তারা অবিলম্বে পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে সাজেক কাউন্টারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে সমবেত হয়ে বক্তব্য দেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়ারা জানান, সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। পর্যটক আসা বন্ধ থাকলে এই খাতের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষের আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে।
তারা বলেন, পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত বহু মানুষের আয়-রোজগার পর্যটকদের আগমনের ওপর নির্ভরশীল। হোটেল-রিসোর্টসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা, পরিবহন ও স্থানীয় ছোট বাণিজ্য—সবকিছুই পর্যটকদের উপস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, চালকসহ স্থানীয় অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে। প্রতিদিনের আয় দিয়ে চলা পরিবারগুলোর জন্য এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।
তাদের ভাষ্য, সাজেকের পর্যটন শিল্প শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, স্থানীয় বহু মানুষের জীবিকারও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ফলে একটি সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু একটি খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না, পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চলাচলে তার ছাপ পড়ে।
এ অবস্থায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা জরুরি বলে বক্তারা মত দেন। নিরাপত্তা ও পর্যটন—দুটোকেই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজতে হবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আইয়ুশ শান্তি চাকমা। পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে তিনিসহ অন্য বক্তারা পর্যটন বন্ধ থাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকটি তুলে ধরেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সমঅধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদ উল্লাহ, সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি জসীম উদ্দিন এবং ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল। প্রতিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরাই জীবিকা রক্ষার দাবিতে একই সুরে কথা বলেন।
সমাবেশ থেকে পর্যটন খাত রক্ষা, স্থানীয় মানুষের জীবিকা সুরক্ষা এবং পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করা হয়। দাবি আদায়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
সাজেককে ঘিরে চলমান পরিস্থিতিতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের এই বিক্ষোভ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন দেখার বিষয়, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যটন কার্যক্রম কবে নাগাদ স্বাভাবিক হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবিকা কবে ফের সচল হয়।






