রাজধানীতে পুরাতন রমনা থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, মোটরসাইকেলে এসে পালাল দুর্বৃত্তরা
রাজধানীর পুরাতন রমনা থানার সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে করে এসে একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
থানার একেবারে সামনে, সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে পথচারী ও আশপাশের মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছোটেন।
ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন রমনা মডেল থানার ডিউটি অফিসার পরিদর্শক আবদুল আল মোহসিন। তিনি জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর এই আকস্মিক হামলার ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসে। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েই তারা দ্রুত পালিয়ে যায়, ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের পরিচয় ও পালানোর পথ শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে, একটি থানার সামনে এমন হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সন্ধ্যার সময় থানা এলাকায় সাধারণত মানুষের চলাচল থাকে; সেই সময়ে বিস্ফোরণ ঘটানোয় ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যমূলক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
ঘটনার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। কারা, কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজই এখন তদন্তের প্রধান ভরসা। আশপাশের সড়ক ও ভবনের ক্যামেরায় ধরা পড়া চিত্র থেকে মোটরসাইকেল ও আরোহীদের শনাক্ত করা গেলে হামলাকারীদের গ্রেফতারে অগ্রগতি আসতে পারে।
এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িতদের শনাক্তে তৎপরতা চালিয়েছে। এবারের ঘটনায়ও সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আপাতত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে থানার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
এখন সবার নজর তদন্তের দিকে—সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা যায় কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে এই আতঙ্কের অবসান। পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী অগ্রগতি জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




